একদিন শীতলক্ষ্যায়

Posted: December 5, 2016 in Uncategorized

IMG_20140131_174412ছেলেটির বয়স তেমন নয়,মাত্র সাত আট বছর হবে বৈকি।তবে তার চাল চলন স্বভাবে ফুটে উঠে সে যেনো এক পরিপক্ক যুবক।বাজে কোন অভ্যাস নেই তার সে কেবল একটু বেশী চঞ্চল আর অদম্য ইচ্ছে শক্তি আছে যা অজানাকে জানতে অদেখাকে দেখতে নিজের অববয়কে হারিয়ে ফেলে।সে দিনও পিতার হাতটি ধরে ঘুড়তে বেরিয়েছিলো শীতলক্ষ্যার নদীর ধারে।শীত কালে সাধারণ নদী মরা থাকে।জোয়ারে কিছুটা জল বেড়ে গেলেও তা ভাটায় আগের অবস্থায় রূপ নেয়।সে দিন পিতা পুত্র হাটছিলেন ভাটা নদীর পাড় ধরে হঠাৎ তার প্রশ্নের জোয়ার আসে মনে।হাটতে যাওয়ার সময় পায়ে মাড়িয়ে যাওয়া দূর্বা ঘাসের দিকে নজর পড়ল তার।দূর্বা ঘাস গুলো কোথা স্থানে আছে আবার কোন স্থানে নেই এই নিয়ে গতকাল রাতে টিভি দেখার সুত্র ধরে পিতার সাথে তর্কে মেতে উঠে সে।
-আব্বু…
আনমনা চলন্ত আব্বু তার কথার যেন শুনতে পাচ্ছে না।হঠাৎই পুত্র পিতার হাতটি ধরে টান দিয়ে তার কথা বলার প্রতি মনোযোগে ইঙ্গিত দিলো।
-ও আব্বু আব্বু
-জি আব্বু…বলো।
-না,তুমি আগে দাড়াও
-আচ্ছা এই নাও দাড়ালাম এবার বলো কি বলবে?
-বলছি কি এই যে দুর্বা ঘাস নদীর ধারে এত্তো এত্তো অথচ গতকাল টিভিতে দেখলাম বিদেশে কত সুন্দর সুন্দর দেখালো।
-বিদেশেরটি ওরা নিজেরা টাকা খরচ করে অন্য দেশ হতে ক্রয় করে বপণ করেন আর আমাদের এ দূর্বাগুলো আল্লাহর দান…কোন খরচ নাই বুঝলে…।এবার হাটো।
-ওরা কেনো এ ঘাস কিনে?
-কারন ওদের মাটিতে আমার দেশের মাটির মতো এমনি এমনি কোন বৃক্ষ বা গাছ গাছালি হয় না।
-তাহলে তো আমার দেশের মাটি অনেক ভালো মাটি।
-কেনো নয়, সে দিন না একটা গান শুনলে, “সোনা সোনা সোনা সোনা নয়তো খাটি তার চেয়ে খাটি যে ভাই আমার বাংলাদেশের মাটি”
-তাহলে তো আমরা অনেক ধনবান হতে পারি এ সব রপ্তানি করে,
-হ পারিতো,কি ভাবে?(এখানেই কবি নীরব)
কিছুটা পথ হাটার পর আবারো হাত ধরে টান।
-আচ্ছা আব্বু এই যে এ নদী দেখছি এটা হলো কি করে এতো জল আসে কই থেকে?
-পুরোপুরি বলতে পারবো না তবে প্রবল স্রোতে নদী নালার সৃষ্টি হয়।
-স্রোত কি?
-স্রোত হলো জলের গতিবেগ….দূর পাহাড়ে জমে থাকা বৃষ্টির জলের ধারায় এক একটি নদী বা খাল সৃষ্টি হয়।আর একটা কথা “তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল নিয়েই পৃথিবী সুতরাং বুঝতেই পারছো নদী নালাগুলো আল্লাহ সৃষ্টি।
পিতার উত্তর যেনো ছেলের কাছে মনোপুত হলো না তবুও সীমিত জ্ঞান বলে সে আপাতত মেনে নিল।একটা দীর্ঘসাস ছেড়ে পিতার হাতটি ধরে হাটতে থাকলো।কিছু দূর যেতেই ছোট্ট একটি টং দোকান দেখে আব্বুর কাছে বায়ণা ধরল তাকে কি জোস যেনো কিনে দিতে হবে পিতার অনেক বারণ করার পরও সে শুনলো না জোস তাকে কিনেই দিতে হবে।বাধ্য হয়ে দোকানে গিয়ে একটি ম্যাঙ্গো জোস কিনে দিলো তাকে।সে জোসটির মুখ্খাটি খুলে একটু মুখে দিয়েই তা আবার বমির মতো বাহিরে ফেলে দিলো।পিতা তখন তার জোসটি হাতে নিয়ে জানতে চাইলো কেনো সে জোসটি পান করল না।
-কি ব্যাপার আব্বু কি হইছে তুমি জোসটি খাচ্ছো না কেনো?
-কেমন যেনো গন্ধ লাগছে আব্বু।
-কেনো আমের ঘ্রাণ তো আসবেই,
-না আব্বু আমের ঘ্রাণ এলেতো খেতামই,পচা গন্ধ….দেখোতো এক্সপ্যায়ার ডেট আছে কি না।
-আমিতো সে জন্য বলছিলাম তুমি এ সব জোস খেয়ো না…..না খাবোই এবার হলতো খামোখা কয়েকটি টাকার অপচয়।আরে এ সব জোস তৈরীতে কোন তাজা ফলের রস নেই …ক্যামিকেল দিয়ে এ সব তৈরী হয় আর মান দেখার মানি লোকইতো এ দেশে নেই।বুঝলে এবার।
-জি আব্বু আর খাবো না….তবে টিভিতে যে বিজ্ঞাপন দেয় তা কি আসল?
-এতো কথা বলতে পারবো,যা বলি তাই শুনবে,ঠিক আছে?
-ঠিক আছে।

আবারো পিতার হাতটি ধরে হাটা।কিছু দূর যাবার পর পিতা তার বেশ কয়েক জন পুরনো বন্ধুর দেখা পেলেন।হাটা থামিয়ে তাদের সাথে কোশলাদি জিজ্ঞাসা করল এক পর্যায় পুরনো বন্ধুদের পেয়ে ছেলেকে বলল এ দিক সে দিক দেখে শুনে ঘুড়তো বলল।ছেলে যেনো এবার বন্দিশালা হতে মুক্ত হলো।ইয়াহু বলে দিলো এক দৌড়।বন্ধুরা সবাই ছেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
-আর বলিস না যা দুষ্ট হয়েছে না ও…ঘরে থাকতেই চায় না।আমি ছুটিতে থাকলেই হইছে তাকে নিয়ে বাহিরে ঘুড়তে যেতেই হবে নতুবা কান্না-কাটি করে ঘর অশান্তি করে তুলবে।….যাক সে কথা তোরা কেমন আছস?অনেক দিন পর দেখা।

বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা,আকাশের উড়ন্ত পাখিগুলো উড়ে যাচ্ছে যার যার নীড়ে।কিছু ক্ষণের মধ্যে হয়তো মাঝি গলা ছেড়ে গাইবে ভাটিয়ালি গান।আকাশঁটা আজ বেশ পরিস্কার ছিলো মাঝে মধ্যে দু একটা মেঘের কুন্ডলী জানান দিয়ে যাচ্ছে এখন শীত কাল কিছু ক্ষণের মধ্যে হবে লোকারণ্যের কোলাহল অস্তিমিত।যদিও বিংশতাব্দি পেরিয়ে গ্রামকে ধ্বংস করে সবাই শহরের রূপ দিতে ব্যাস্ত তথাপি আমাদের শীতলক্ষ্যার নদীর তীরে গাছে গাছে এখনো সন্ধ্যায় পাখিদের কিচিমিচির শব্দ খুজে পাই..দেখি কয়েকটি শুভ্র বকেরা এক পায়ে দাড়িয়ে শিকারী নিশানা তাক করে এক নিষ্ঠ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আগত আহারের দিকে,এখনো পাড়ার শখের জেলেরা জাল নিয়ে মাছ শিকারের নেশায় মত্ত, এখনো বৈকালীন আড্ডা জমে শীত কি গ্রীষ্মে।শান্ত শীতল নদীর ঢেউয়ে কোন কালে কোন নজির নেই নদীর পাড় ভাঙ্গার,নেই পদ্মা পাড়ের পাড় ভাঙ্গা মানুষের মতো হা হা কার।যেমন তার নাম তেমনি তার কাম শীতল শীতলক্ষ্যা।

পিতা তার বন্ধুদের নিয়ে আড্ডায় মসগোল ছেলেকে দিলেন ছেড়ে আশ পাশে খেলাধুলা করে আসতে।ছেলেকে সাবধান করে দিলেন দূরে কোথাও যেন না যায়।ছেলে মাথা ঝাকিয়ে সেই যে গেলো আর এলো না।আড্ডার এক পর্যায়ে হঠাৎ ছেলের কথা মনে পড়ল।মুহিন মুহিন বলে চার দিক ডাকা ডাকি শুরু করে খোজঁতে লাগলেন।সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় সাথের বন্ধুদের অনেকেই বিদায় নিলেন।দুজন বন্ধু তা সাথে ছেলে মুহিনকে খোজছেন।বেচারা পিতা আফজাল হোসেনের একমাত্র সন্তান সে,তার উপর দীর্ঘ কালের বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে এই একটি পুত্র সন্তান পাওয়া যেনো স্রষ্টার কাছ থেকে জোড় করে আনা।বাসা থেকে কর্তীর ফোন আসে বেশ কয়েক বার ফোন রিং বাজার পর টেনসনের মাথায় ফোনটি ধরেন।
-হেলো…
-কি ব্যাপার তুমি কথা বলছো না কেনো?সন্ধ্যা হয়ে এলো তোমরা আসছো না কেনো?
কাপা কাপা কন্ঠে আফজাল সাহেব,স্ত্রী কে শান্তনা দিয়ে ফোন রেখে দিলেন তাতে তার স্ত্রীর সন্দেহ বেড়ে যায়।সে তার মনকে মানাতে পারলেন না তাই সেও ছুটলেন শীতলক্ষ্যার তীরে।
দুষ্টু আর দূরন্তপণা মুহিন বাবাদের আড্ডার সুবাদে একটি বড় ফড়িং ধরার নেশায় পিছু নিল উড়ন্ত ফড়িংয়ের।এক বার সে ধরেই ফেলেছিলো হঠাৎ এক দমকা হাওয়া এসে এতো হাতের এসেও উড়ে গেলো…সেও তার পিছু ছাড়ছে না বলে পণ করল।আবারো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে দেখে ফড়িংটি কোথায় বসল,নদীর জলের পাশে এক ছোট্র গাছের ডালে বসা।ফড়িংটি কেমন যেনো ছটফট করে হাত দুটোকে দু’হাতের তালুর ঘর্ষণে ব্রত বেচে থাকার আহার সংগ্রহের আকুতি,চোখোদয়ে ঝল মলের আলো ছড়াচ্ছে হঠাং রাতের নীরবতা ল্যাম্প পোষ্টের বাতিগুলোর আলোক রশ্মি গণ অন্ধকার পরিবেশকে কিছুটা সন্ধ্যা বুঝায়।
চমকে উঠে মুহিন এক অদ্ভুত শব্দের সূর শুনে,যেনো কেউ সাহায্য চাচ্ছে বা কেউ ডাকছে তাকে।ভালো করে করে কনফ্রাম হওয়ার জন্য আবারো সে জলের বালুকা ময় কাদা imagesপেড়ি মাটি গুলোর দিকে তাকায় হঠাৎ হেজাক লাইটের আলোর বিজলির মতো বিজলী মারল মনে হয় ল্যাম্প পোষ্টের লাইটটের একটি আলো কোন এক জীবের চোখের রি -এ্যাকসনস,মুহিন সহজে সহজেই তা বুঝতে পারে…শব্দ করা সূর বলে একটা কুকুর ছানা হয়তো কাদায় আটকা পড়েছে।
একটু কাছে যাবার চেষ্টা মুহিনের,কয়েকটি ধাপ পা ফেলে ফেলে সে এগুতে থাকে,আচমকা সে নিজেও চুরা কাদা বালিতে আটকে গেলো ,যদিও এ কাদার তেমন একটা গভীরতা নেই তথাপি সামনে এগিয়ে যাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ল তার জন্য।মুহিনের সুন্দর জামাটি কাদায় একাকার।কাদা মাখা মুখো বয়ে ফুটে উঠেছে গ্রাম্য ভুত আর কুকুর ছানাটির তো কথাই নেই কখনো এক মুহুর্তের জন্য হলেও স্থির নেই বিকট শব্দ সহ কাদাতে উলোট পালোট খাচ্ছে তা দেখে একই অবস্থার প্রতীক মুহিন খিল খিল করে হাসছে।তার একটু বামেই নদীর পাকা ঘাট সেই ঘাটে অসংখ্য মানুষ গোছল করেন দিনের বেলায় রাতেও দু একজন গোছল করতে ঘাটে আসেন।তেমনি আজও একজন গোছল করতে ঘাটে এলেন।ঘাটে সে ছাড়া অন্য কোন লোকজন নেই।সে যখনি ঘাট দিয়ে নেমে জল স্পর্শ করেন তখনি একটি ভূতুরের মতো শব্দ শুনতে পায়।
ঘাড়টা ঘুড়িয়ে লক্ষ্য করলেন শব্দের উৎপত্তির দিকে।ভয়ার্ত মনে তার চোখের সামনে ভেসে উঠে এক কাদা মাটিতে লেপ্টানো ভুতাকৃতি হাত পায়ের উল্টা উল্টি।ভয়ে ভীতু মন কেদে উঠে চাচা আপনা প্রান বাচা নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে দে পাছায় লুঙ্গি তুইল্লা দৌড় দিল।লোকটার ভয়ার্ত চিৎকার শুনে পাশেই মুহিনের আব্বু সহ বন্ধুরা,আর ততক্ষণে মুহিনের মা সহ গ্রামের কিছু হৃদয়ের টানে পাড়া প্রতিবেশীও জড়ো হলেন শীতলক্ষ্যায়।
লোকটি ভয়ে কয়েক বার মাটিতে হামাগুড়ি খেয়ে জড়ো হওয়া বেশ কয়েক জন লোক দেখে সাহস ফিরে পেলেন।সেখানে মুহিনের আব্বুকে নদীর ঘাটে যেতে বাধা দিলেন।
-ও ভাই ভাইও ঐ দিকে ঐ ঘাটের দিকে যাইয়েন না।
-কেন কি হইছে…আর আপনার পড়নে আন্ডার প্যান্ট কেনো লুঙ্গি কোথায়?
-জানি না ভাই লুঙ্গি কই পড়ছে…আমি এ কি দেখলাম।
-কি দেখেছেন?
-ভূত!
-ভূত?
-হ ভূত…নদীর ধারে কাদা প্যাক মাটিতে দু দিকে দুটো ভূত মাটিতে গড়াগড়ি করে খেলা করছে।বাবারে একটুর লাইগ্গা বাইচ্চা গেছি।
-বলেন কি?চলেন তো দেখি কোথায়?
-না না ভাই আমি যাবো না আপনেরা যান….ঐ যে পাকা ঘাট ঐ ঘাটের ডান দিকে….আমি গেলাম।
লফ্ফ দিতে দিতে চলে গেলেন লোকটি।মুহিনের আব্বু লোকটির ভূত ধারণা করার মাঝে সন্দেহ খোজেঁ পেলেন।সে তৎক্ষণাৎ সে দিকে এগুলেন।সেখানে উপস্থিত হয়ে যা দেখলেন তাতে সে রীতিমত অবাক হলেন।
ক্রন্দনরত কুকুর ছানাটিকে কাদামাটিতে পা আটকে থাকা অবশেষে মুক্ত করতে পারলো। মুহিন ক্রন্দনরত কুকুর ছানাটিকে যখনি স্পর্শ করল তখনি পরম স্নেহে কাতর জীবটি নিশ্চুপ হয়ে মুহিনের হাতে লেগে থাকা ময়লাগুলো জিহবা দিয়ে চেটে তা পরিস্কার করে নিজেকে বাচানোর ব্যাক্তিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ প্রকাশ করল।সে কাদামাটি মাখা বাচ্চাটিকে বুকে নিয়ে পাকা ঘাটে বসে জল দিয়ে বাচ্চাটির কাদা মাটিগুলো পরিস্কার করছে।ঠিক সেই সময় মুহিনের আব্বু মুহিন মুহিন বলে ডাকতে ডাকতে পাকা ঘাটের সিড়ি দিয়ে নীচে তার কাছে গেলেন।
তাকে পেয়ে আব্বু যেনো প্রান ফিরে পেলেন।কাদা মাটি মাখানো মুহিনকে আচমকা বুকে টেনে চোখের জল ছেড়ে দিলেন।এরই মধ্যে তার মা সহ বেশ কয়েকজন আত্মীয় স্বজনও ঘাটে ভীড় করলেন।মুহিন যেনো অবাক এতো লোকজন কেনো?কি হয়েছে এখানে!আশ্চর্য হয়ে পিতাকে প্রশ্ন করে।
-কি হয়েছে আব্বু তুমি কাদছো কেনো?আম্মু… তুমিও এসেছো? ভালোই হলো….দাড়াও তোমাকে একটা জিনিস দেখাচ্ছি কিন্তু আমি এটাকে বাসায় নিয়ে যাবো।এই যে এই কুকুর ছানাটি ঐ…ঐ খানে কাদায় আটকে ছিলো।কখন থেকে সে আটকে ছিলো জানি না।আমি যখন ওর কান্নার শব্দ পেলাম তখন তাকে বাচাতে আমিও কাদায় ডেবে গেলাম তখন আমিও চিন্তায় পরলাম….এখন কি হবে আমাকে কে তুলবে এখন।তারপর মনে পড়ল আব্বু যে প্রায় একটি গান শুনতো তা মনে পড়ল”যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলোরে”কাউকে ডেকে যখন পাচ্ছি না তখন একলাই জোড় খাটিয়ে কাদা মাটিতে আটকে থাকা পা তুলে তুলে কুকুর ছানাটিকে উদ্ধার করলাম।আচ্ছা আম্মু আমি যখন কাদায় আটকে ছিলাম তখনতো নদীর জল ছিলো বহু দূরে তা দেখি এক সময় আটকে থাকা আমার পায়ের কাছেও এসে যায় তাইতো মাটি নরম হয়ে যাওয়াতে আমি উঠতে পেরেছি।আচ্ছা নদীর জল বাড়ল কি করে?
মায়ের চোখেও জল বাবার চোখে মুখেতো চিন্তিত ভাব আছেই।প্রশ্নটি করে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলো তার চোখ দিয়ে টলটলে জল ঝড়ছে।অবাক মুহিন কিছুই বুঝতে পারছে না,এখানে এতো লোক কেনো!কেনোই বা তার দিকে উৎসুক সবাই তাকিয়ে আছেন।এক প্রকার অপরাধের মতো সে মাকে বলল।
-মা তুমিও দেখছি কাদছোঁ….আমি কি কোন অন্যায় করেছি? ..কি করব বলো কুকুর ছানাটি এমন ভাবে চিৎকার করছিলো,শুনে মন মানলো না।
-ঠিক আছে…বাসায় চলো।
ছেলেকে কোলে তুলে নিল পিতা আফজাল হোসেন।হেটে সিড়ির এক স্টেপসে পা রাখতেই সেই কুকুর ছানার চিৎকার শুনে মুহিন বাবার কোল হতে নেমে দৌড়ে কুকুর ছানাটিকে আদর করছে।পিতা তার সামনে দাড়ালে তার দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে কাকুতিময় আবদার করল।
-আব্বু এটাকে বাসায় নিয়ে যাই…।
-ঠিক আছে।চলো…।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s