132px-কাদেরিয়া_বাহিনীর_অস্ত্র_জমাদানকেউ আসুক আর নাই আসুক
আমি আসবো,
প্রিয়তমার ডাকে যেমন করে
ছুটে যেতাম
শত বাধা ডিঙ্গিয়ে
তেমনি করে আমি আসবো,
কখনো মৌনতায় কখনো বা
বজ্র কন্ঠে
রাজ পথে,
শহর গ্রামের অলি গলিতে
আমি আসবো তোমাদের কথা বলতে,
আমি আসবো
আমার অধিকার চাইতে।

আমি আসবো শত
অত্যাচারিত
নীপিরিত
জনতার কাতারে
শোষকের বিরুদ্ধে,
আমি হুংকার তুলবোই
আমি আসবোই তোমাদের মাঝে
হাতে হাত রেখে কাধে কাধ মিলিয়ে
রাজাকার,
আলবদর
শামস্
মানুষ নামক হায়নাদের
বংশ,নিরবংশ করতে
দাবী পেশে
নতুবা
হাতে তুলে নিবো পূর্ব পূরুষদের মতো
আরো একটি যুদ্ধের অস্ত্র
এ যুদ্ধ কোন ভিনদেশের নয়
স্বগোত্রীর
বেকে যাওয়া কিছু জাতির
মগজ ধোলাইয়ে
আমি আসবো
তোমাদের
সাথে।

আমি আসবো তোমাদের মাঝে
দুঃখির দুঃখ
ছিন্নমুল মানুষের
অধিকার আদায়ে
আমি বলব উচ্চ সূরে
আমি শুনতে,
শুনাতে বাধ্য করব
গাও সবাই সাম্যের গান
কেউ খাবেতো কেউ খাবে না
কেউ অট্রেলিকায় আরাম করবে
কেউ শুধু
মাথাগুজবার ঠাইটুকুও পাবে না
তা আর হবে না
হতে দিবো না,
প্রয়োজনে
হাজারো
লাশ
হবো
শাসকের বুলেটে সিনা টান করে
দাড়াবো
তবুও
তোমাদের
আত্তার সংগ্রামী বন্ধন ছাড়বো না।
আমি আসবো
আমাকে আসতেই হবে
স্বাধীনের চৌয়াল্লিশটি বছর
নীরবে কেদেছিঁ
কত মা’দের অকালে
পুত্র হারানোর শোক
দেখেছি
শুধু
মুক্তমনা বলে ওরা পশুর মতো
প্রতিভাময় মানুষগুলোকে
অমানুষেরা দাড়ালো অস্ত্রের আঘাতে
জনসম্মুখে,
অন্ধ প্রশাসনের সামনেই
তিলে তিলে কূপিয়ে
খুন করল
রাষ্ট্র
তদন্ত
ফদন্ত
নামে
অদৃশ্য
শক্তির
বলে
ষোল কোটি আমজনতাকে উপহাস করল,
ওরা শাসক নয় ওরা অর্থের পাগল
বিকলাঙ্গ প্রশাসন
ভেঙ্গে দিতে
আমি
আসবো
তোমাদের মাঝে
তোমাদের সুখ দুঃখে ভাগ নিতে
প্রয়োজনে যুদ্ধের ডাক দিবো
এবারের সংগ্রাম
“চাই
স্বাভাবিক
মৃত্যুর
গ্যারান্টি”
জয়
আমাদের
নিশ্চিত।

CYMERA_20150526_091214TMP_imgশ্যামলে সবুজে স্বদেশ
রূপের নেইকো শেষ
সব ধর্মের একত্রে বস বাস
আমাদের এই বাংলাদেশ।
এই মাটি আমার অহংকার
জীবন রাঙ্গানো অলংকার
এক বাক্যে কায়ো মনে জপি
তুমিই আমর স্বদেশ।

জন্মেছি তোমার কোলে
কাদামাটি এক করে খেলেছি কত খেলা
2015_06_01_01_14_4914299056553531ঝিলের জলে শাপলা কূড়তে
গত হতো যে কত বেলা।
ঘুড়িয়েছি বহু দেশ দেশান্তর
খুজে পাইনি কভূ মৃত্তিকা
এমন তাজাঁ ফসলের উর্বরতা
অনাদরে,
কেমন করে বেড়ে উঠে
গাছ গাছালি লতা-পাতা।
নদী মাতৃক দেশ আমার
বৈঠা চালিয়ে মাঝি,
ভাওয়াই পল্লীগীতির সূর তুলে
গলা ছেড়ে গেয়ে সে
কত কিছুই যে এপাড় ও পাড় করায়।
2015-05-29_16-54-06-154PicsArt_1431281055643
কত কবি কত সাহিত্যিক মুগ্ধ
তার রূপে
ষড় ঋতুতে স্বদেশের প্রকৃতি
ভিন্ন ভিন্ন সাজে।
শীত গ্রীষ্ম বর্ষায় মন নেচে যায়
বাহারী পিঠা আর ফলোৎসবে
বাঙ্গালী অতিথী আপ্যায়নে
গ্রাম শহর এক হয়ে যায়।
2015-05-29_17-44-45-0532015-05-29_18-00-11-290 মেলায় যাইরে পাগল করা উৎসবে
ছেলে বুড়ো সবাই মিলে
জীবনকে রঙ্গীন করে বেড়ায়
নাগর দোলায় দোল খায় দেহ-মনে।
হরেক রকম কসমেটিসে সাজেঁ
শহর-পল্লী বধু কন্যা,
অর্থের টান পোড়নেও বাধ মানেনা
উৎসবের আমেজে ঘরে
অতিথীর ঠাই ধরে না।
CYMERA_20150612_152402
PHOTO_20150612_175543_PAST_SHOT_00
কাবাডি আর ফুটবল খেলা চলে
হরদম বার মাসে
পাড়া মহল্লা মেতে উঠে
আছে আমাদের  ক্রীকেটার টাইগার
আধুনিক বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ দেবার
আমরাও কম কিসে।
এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে 
আমার জন্ম ভূমি।
2015-04-27_00_13_46

সোনেলা ব্লগের সহ ব্লগার

সাতকাহন হতে নেয়া

সুভাষ বসুর জন্ম ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর বাবার কর্মস্থল উড়িষ্যার কটক শহরে। বাবা জানকীনাথ বসু, মা প্রভাবতী দেবী। সুভাষ বসু ছিলেন বাবা-মায়ের নবম সন্তান। সুভাষদের পৈতৃক নিবাস পশ্চিম বাঙলার চব্বিশ পরগণার চাংড়িপোতা গ্রামে। সুভাষ পূর্ব-পুরুষের দিক দিয়ে দুইটি ভূস্বামী গোষ্ঠীর উত্তরসূরী ছিলেন, পৈতৃকসূত্রে মাহিনগরের বসু পরিবারের আর মায়ের দিক দিয়ে হাটখোলার দত্ত পরিবারের। সুভাষের বাবা জানকীনাথ বসু ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী, তিনি কটক শহরের স্বনামধন্য আইনজীবী ছিলেন। আর বাবা জানকীনাথ বসুর আইন ব্যবসার সূত্রেই সুভাষদের বসতি উড়িষ্যার কটক শহরে।

অন্যদিকে সুভাষের বাবা এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, তিনি ১৯০১ সালে কটক শহরের প্রথম নির্বাচিত মেয়র। জানকীনাথ বসু ১৯০৫ সালে কটক শহরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিযুক্ত হন, কিন্তু ওই সময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে বিবাদ সৃষ্টির কারণে ১৯১৭ সালে জানকীনাথ বসু পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯১২ সালে জানকীনাথ বসু বেঙ্গল লেজিজলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময়ই ব্রিটিশ সরকার তাঁকে রায় বাহাদুর খেতাবে ভূষিত করে। সুভাষের আইসিএস থেকে পদত্যাগে তিনি খুবই মর্মাহত হয়েছিলেন, তবে পরবর্তীকালে সুভাষের দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি খুবই গৌরববোধ করেছিলেন সুভাষের মতো সন্তানের পিতা হতে পেরে। ভারতের স্বাধীনতার দাবিতে ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া রায় বাহাদুর খেতাব বর্জন করেন জানকীনাথ বসু।

সুভাষের বাল্যশিক্ষা শুরু হয় কটক শহরের র‌্যাভেন’শ কলেজিয়েট স্কুলে। প্রধান শিক্ষক ছিলেন বিপ্লবী বেণীমাধব দাস। বেণীমাধব ছিলেন দেশপ্রেমিক এবং আদর্শবান একজন শিক্ষক। ছাত্রদের দেশপ্রেমিক ও আদর্শ চরিত্র গঠন এবং বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধকরণে বিপ্লবী বেণীমাধব দাসের অবদান ছিলো অপরিসীম। সুভাষ বসুর জীবনে মূলত এই বিপ্লবীর প্রচ্ছন্ন ছায়া শেষদিন পর্যন্ত ছিলো।

সুভাষ ১৯১১ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাট্রিক পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। এই কলেজে ওটেন সাহেব নামে একজন ইংরেজ অধ্যাপক ভারত বিরোধীতায় মুখর হয়ে উঠতেন শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের সময়। এই কারণে ওটেন সাহেব বিপ্লবী অনঙ্গমোহন, বিপ্লবী সতীশ দে ও সুভাষ বসুর দ্বারা প্রহৃত হন। এই অপরাধে ১৯১৬ সালে অন্যদের সাথে সুভাষ বসুকেও কলেজ থেকে বহিস্কার করা হয়।

এরপর কিছুদিন ঘোরাঘুরি করে কাটানোর পর ১৯১৭ সালে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সহায়তায় সুভাষ স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯১৯ সালে দর্শন শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণীতে অনার্সসহ বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এই সময় সুভাষ ইউনির্ভাসিটি অফিসার্স কোর-এ যোগ দিয়ে সমরবিদ্যায় জ্ঞান অর্জন করেন।

বাবা জানকীনাথ বসু ও পরিবারের সিদ্ধান্তে আইসিএস পড়ায় মনস্থির করলেন সুভাষ। ১৯১৯ সালের শেষের দিকে আইসিএস পড়ার জন্য ইংল্যান্ডে যান সুভাষ। মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই চতুর্থস্থান অর্জন করে আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন সুভাষ। ১৯২১ সালে ক্যামব্রিজ থেকে গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করেন সুভাষ।

সুভাষের বাল্যকাল ও কৈশোর কেটেছে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের উত্তপ্ত পরিবেশে। এই আন্দোলন সারা ভারতবর্ষেও রাজনৈতিক অঙ্গন প্রকম্পিত করে তুলেছিলো। স্কুলে যখন পড়তেন তখন সুভাষ বিপ্লবী গুরু অরবিন্দ ঘোষকে দেখেছিলেন বিপ্লবী প্রচেষ্টায় অক্লান্ত পরিশ্রম করতে। দেখেছিলেন প্রফুল্ল চাকী ও প্রফুল্ল চক্রবর্তীর আত্মাহুতি; ক্ষুদিরাম বসু, কানাই লাল দত্ত, সত্যেন বসু, চারু বসু, বীরেন দত্তগুপ্তকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলতে দেখেছেন। কলেজে পড়াকালী সময়ে দেখেছেন প্রখ্যাত বিপ্লবী নেতা রাসবিহারী বসুর নেতৃত্বে দিল্লীতে লর্ড হার্ডিঞ্জ-এর উপর বোমা নিক্ষেপ করতে, সেই রাসবিহারী বসুর নেতৃত্বেই দেখেছেন ভারতবর্ষে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহ সংঘটিত করতে; দেখেছেন বিপ্লবী বাঘা যতীনকে তাঁর চার সহকর্মী চিত্তপ্রিয় চৌধুরী, নীরেন দাশগুপ্ত, মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত এবং যতীশ পালসহ ব্রিটিশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখসমরে শহীদ হতে।

১৯১৯ সালে সুভাষ যখন আইসিএস পড়তে গেলেন ইংল্যান্ডে, তারপরই জালিওয়ালানবাগের পাশবিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। ১৩ এপ্রিলের ওই হত্যাকাণ্ডে দুই হাজারের বেশি নিরস্ত্র মানুষ হতাহত হয়েছিলো। সারা ভারতবর্ষ তখন প্রতিবাদে ও নিন্দায় সরব হয়ে উঠেছিলো, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নাইট উপাধি বর্জন করেছিলেন ওই ঘটনার পরে। ওই ঘটনা প্রতিবাদী সুভাষকে প্রবলভাবে ব্যথিত করে তুলেছিলো। সেই সময় সারা ভারতবর্ষে যেভাবে ব্রিটিশ বিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সুভাষ যে বিপ্লবের অগ্নিস্ফূলিঙ্গ প্রত্যক্ষ করেছেন তা তাঁর বিপ্লবী মনের উপর প্রচণ্ডভাবে প্রভাব বিস্তার করে। তখন ভারতবর্ষে দেশাত্ববোধ ও জাতীয়তাবোধের যে উন্মেষ ঘটেছিলো তা তিনি অবলোকন করেছেন, উপলব্ধি ও আত্মস্থ করেছেন। ওই ঘটনাগুলোর মাধ্যমেই তিনি দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের সাথে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে জড়িয়ে ফেলেন; যা পরে তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের উপর প্রচণ্ডভাবে প্রভাব ফেলে। ইংল্যান্ডে থাকাকালে পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি সেখানকার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানগুলো অবলোকন করেন এবং ইউরোপ সম্পর্কে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডের জাতীয় আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেন।

১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধী কর্তৃক যখন ভারতবর্ষব্যাপী অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছিলো ঠিক সেই সময় জাতীয়তাবোধে সিক্ত, বিপ্লবী চেতনায় বিশ্বাসী সুভাষ বসুর মন চলে গেলো ভারতের রাজনীতির মাঠে। সুভাষ আইসিএস-এর লোভনীয় চাকুরি ও বিলাসবহুল জীবন পরিত্যাগ করে বিপ্লবের টানে ও মুক্তির তাড়নায় স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য মনস্থির করলেন।

১৯২১ সালের ২২ এপ্রিল সুভাষ আইসিএস থেকে পদত্যাগ করে ভারতে ফিরে আসেন। ১৩ জুলাই বোম্বে পৌঁছে তিনি সোজা মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে যান। গান্ধী তাঁকে উৎসাহ দিয়ে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সাথে দেখা করতে বলেন। কোলকাতায় ফিরে সুভাষ দেখা করলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সঙ্গে; সুভাষ দেশবন্ধুর সাথে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন। এই সময় থেকেই দেশবন্ধু তাঁকে রাজনৈতিক শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।

১৯২১ সালের আগস্ট মাসে সুভাষ বসু অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। চৌরিচেরার সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে গান্ধী সেইবারের মতো আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সাথে সুভাষও গান্ধীর এমন কর্মকাণ্ডে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। ওই বছরেই সুভাষ ব্রিটেনের যুবরাজের ভারত ভ্রমণ বয়কট আন্দোলনে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ওই বয়কট আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে সুভাষকে গ্রেফতার করা হয়।

বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুভাষ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। সুভাষ দেশবন্ধুর আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে কোলকাতা কংগ্রেস-এর কর্মকাণ্ডের মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে নেন। সুভাষকে জাতীয় কলেজের অধ্যক্ষ, প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির পাবলিসিটি বোর্ডের ও স্বরাজ পত্রিকা এবং জাতীয় ভলান্টিয়ার গ্রুপের দায়িত্ব দেওয়া হলো। একজন অনভিজ্ঞ লোকের হাতে এতো দায়িত্ব দেয়ার জন্য অনেকের ঈর্ষার কারণ ও সমালোচিত হয়েছিলেন দেশবন্ধু। কিন্তু সুভাষ বসু একজন অভিজ্ঞ লোকের মতো তাঁর সমস্ত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে তাঁর রাজনৈতিক গুরুকে সঠিক প্রমাণ করতে পেরেছিলেন। এ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের সম্পাদিত কোলকাতার স্টেটসম্যান পত্রিকা তাঁর উদ্যম আর কর্মক্ষমতার প্রশংসা করে বলেছিলো, ‘যখন কংগ্রেস একজন সামর্থ লোক পেলো, তখন সরকার হারালো তার একজন সুদক্ষ কর্মকর্তা।’[১]

১৯২২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে উত্তরবঙ্গে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিলো সেখানে বন্যাপীড়িতদের সেবা করে মানবতার যে স্বাক্ষর রেখেছিলেন সুভাষ, তা তাঁর ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য সহায়ক হয়েছিলো।

সুুভাষ বসু বিশ্বাস করতেন যে, আবেদন-নিবেদন ও তোষামোদ করে স্বাধীনতা আদায় করা সম্ভব না,স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে হয় সংগ্রাম করে, যুদ্ধ করে, রক্তের বিনিময়ে। তাই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম থেকেই কংগ্রেসের পাশাপাশি বাঙলার সশস্ত্র বিপ্লবীদের সংগঠিত করতে থাকেন। এই সময় থেকেই তিনি একদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে অপরদিকে বাঙলার বিপ্লবী সংগঠনগুলোর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন। বিপ্লবীগণও তাঁকে নিজেদের নেতারূপে কংগ্রেসের রাজনীতিতে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। ১৯২১ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত সুভাষ কোলকাতা ও ঢাকাসহ বাঙলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিপ্লবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কের স্থাপন করেন।

তাঁর রাজনৈতিক গুরু দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ছিলেন হিন্দু-মুসলিম মিলনের নিবেদিতপ্রাণ সমন্বয়কারী। দেশবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন বাঙলাকে অখণ্ড রেখে শান্তিপূর্ণভাবে জীবন-যাপন করতে হলে হিন্দু-মুসলমানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতার প্রয়োজন, প্রয়োজন একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের। তাই ১৯২৩ সালে সিরাজগঞ্জে প্রাদেশিক সম্মেলনে দেশবন্ধু তাঁর বিখ্যাত হিন্দু-মুসলিম চুক্তি (বেঙ্গল প্যাক্ট) সম্পাদন করেন। এই চুক্তিতে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠার শর্ত নিবদ্ধ ছিলো। এই চুক্তিতে ছিলো আইনসভাগুলোতে মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ এবং চাকুরির সংখ্যানুপাতিক বিন্যাস, এ ক্ষেত্রে মুসলমানদের শতকরা ৫৫ ভাগ এবং হিন্দুদের শতকরা ৪৫ ভাগ নির্ধারণ হয়। এই চুক্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, মসজিদের সামনে বাজনা বাজিয়ে শোভাযাত্রা করা চলবে না এবং মুসলমানদের ধর্মীয় অনুশাসনের জন্য গো-হত্যা হলে তাতে বাঁধা দেয়া চলবে না। হিন্দুদের মনে আঘাত লাগে এমন স্থানে গো-হত্যা করা চলবে না।[২]

এই চুক্তিটি তৈরি করেন সুভাষ বসু। এরই মধ্যে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মতিলাল নেহেরুর সাথে ‘স্বরাজ্য দল’ নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, সুভাষ বসুর সাংগঠনিক নেতৃত্বে যা ভারতবর্ষে একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে অবস্থান লাভ করে।

তথ্যপঞ্জি :   
১.    দি স্টেটসম্যান, কোলকাতা; ২০ ডিসেম্বর ১৯২১
২.    বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তির খসড়া, ১৯২৩

১৯২১ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত সুভাষ বসু তাঁর রাজনৈতিক গুরু দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের পাশে থেকে তাঁর সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সুভাষ ছিলেন দেশবন্ধুর যোগ্য উত্তসূরী।

সুভাষ ১৯২১ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই পুরো ভারতবর্ষে বিভিন্ন যুব সংগঠনের সভা-সমিতিতে যোগ দিয়ে তাদের ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং পত্র-পত্রিকায় প্রবন্ধ লেখেন। ১৯২২ সালের মে মাসে তরুণদের স্বাধীনতা সংগ্রামে উৎসাহ দিয়ে একটি প্রবন্ধ লিফলেট আকারে প্রকাশ করেন। এই প্রবন্ধে তিনি লেখেন:

‘আমরা এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়াছি একটা উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে, একটা বাণীর জন্য। আলোক জগৎ উদ্ভাসিত করিবার জন্য যদি গগনে সূর্য উদিত হয়, গন্ধ বিতরণের উদ্দেশে, বনমধ্যে কুসুমরাজি যদি বিকশিত হয়, অমৃতময় বারিদান করিতে, তটিনী যদি সাগরভিমুখে প্রবাহিত হয়, যৌবনের পূর্ণ আনন্দ ও ভরা প্রাণ লইয়া আমরাও মর্ত্যলোকে নামিয়াছি একটা সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য, স্বাধীনতা।

এই দুঃখসঙ্কুল, বেদনাপূর্ণ নরলোকে আমরা আনন্দ-সাগরের বান ডাকিয়া আনিবো। আশা, উৎসাহ, ত্যাগ ও বীর্য লইয়া আমরা আসিয়াছি। আমরা আসিয়াছি সৃষ্টি করিতে কারণ, সৃষ্টির মধ্যেই আনন্দ। তনু, মন-প্রাণ, বুুদ্ধি ঢালিয়া দিয়া আমরা সৃষ্টি করিবো। নিজের মধ্যে যাহা কিছু সত্য, যাহা কিছু শিব আছে-তাহা আমরা সৃষ্ট পদার্থের মধ্যে ফুটাইয়া তুলিবো। আত্মদানের মধ্যে যে আনন্দে আমরা বিভোর হইবো, সেই আনন্দের আস্বাদ পাইয়া পৃথিবীও ধন্য হইবে।

আমরাই দেশে দেশে মুক্তির ইতিহাস রচনা করিয়া থাকি। আমরা শান্তির জল ছিটাইতে এখানে আসি নাই। বিবাদ সৃষ্টি করিতে, সংগ্রামের সংবাদ দিতে, প্রলয়ের সূচনা করিতে আমরা আসিয়া থাকি। যেখানেই বন্ধন সেখানেই গোঁড়ামি, যেখানেই কুসংস্কার সেখানেই সঙ্কীর্ণতা-সেখানেই আমরা কুঠার হস্তে উপস্থিত হইবো।

আজ পৃথিবীর সকল দেশে বিশেষত, যেখানে বার্ধক্যের শীতল ছায়া দেখা দিয়াছে, তরুণ সম্প্রদায় মাথা তুলিয়া প্রকৃতস্থ হইয়া সেখানে দণ্ডায়মান হইয়াছে। কোন দিব্য আলোকে পৃথিবীকে তাহারা উদ্ভাসিত করিবে তাহা কে বলিতে পারে…! ওগো আমার তরুণ জীবনের দল তোমরা ওঠো, জাগো, ঊষার কিরণ যে দেখা দিয়াছে।’[৩]

১৯২২ সালের ডিসেম্বর মাসে আর্যসমাজ হলে নিখিল বঙ্গ যুব সম্মিলনীর অধিবেশনে অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতির ভাষণে সুভাষ ভরাট কণ্ঠে বলেন:

‘যেখানে জীবনের লীলাখেলার আনন্দের লুট হতো, যেখানে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের উৎসগুলির প্রাচুর্য্যে আমাদের ভাণ্ডার উপচে পড়তো, যেখানে জলে সুধা, ফলে অমৃত, শস্যে দেশের অনন্ত প্রাণদায়িনী শক্তি ছিলো, সেখানে আজ বিরাট শ্মশান খাঁ খাঁ করছে। প্রেতের ছায়া দেখে অর্ধমৃত প্রাণ শিউড়ে উঠেছে। এক বিন্দু জল নেই, এতোটুকু জীবন নেই। তোমরা জাগো ভাই, মায়ের পূঁজো শঙ্খ বেজেছে, আর তোমরা তুচ্ছ দীনতা নিয়ে ঘরের কোণে বসে থেকো না। এমন সুন্দর দেশ, এমন আলো, এমন বাতাস, এমন গান, এমন প্রাণ, আজ মা সত্যিই বুঝি ডেকেছেন। ভাই, একবার ধ্যাননেত্রে চেয়ে দেখো, চারদিকে ধ্বংসের স্তুপীভূত ভষ্মরাশির ওপর এক জ্যোতির্ময়ী মূর্তি। কী বিরাট! কী মহিমায়! শ্যামায়মান বনশ্রীতে নিবিড় কুন্তলা, নীলাম্বর-পরিধানা, বরাভয়বিধায়িনী, সর্বাঙ্গীন, সদা হাস্যময়ী, সেই তো আমার জননী।

সেখানে রাজনৈতিক মতদ্বৈধের কোনো স্থান নেই। সমাজ পদ্ধতির কোনো বিশিষ্ট আচার-অনুষ্ঠানকে গোঁড়ামির দ্বারা বড় করে দেখা হবে না। বিভিন্ন ধর্মের পার্থক্য কোনো বাঁধা সৃষ্টি করবে না। সেখানে সমস্ত দেশবাসী জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে একই আদর্শে বিশ্বাসী, একই লক্ষ্যে, একই পথে আপন মনুষ্যত্বকে পাথেয় হিসাবে গ্রহণ করে আমরণ চলতে থাকবে।

অন্তর থেকে কর্মশক্তি আমাদের উদ্বুব্ধ করবে, যে নৈতিক বল আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পথে চালিত করবে সেই শক্তি, সেই বলকে আহুতির অগ্নির মতো চিরন্তনের জন্য উদ্দীপ্ত রাখতে হবে। আশা চাই, উৎসাহ চাই, সহানুভূতি চাই, প্রেম চাই, অনুকম্পা চাই, সবার উপরে মানুষ হওয়া চাই। মানুষের মধ্যে দেবতার প্রতিষ্ঠাই আমাদের সাধনা। জীবনব্যাপী এই সাধনার মধেই আমাদের মুক্তি নিহিত।’[৪]

১৯২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখে ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’তে সুভাষের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় এই প্রবন্ধে সুভাষ লেখেন:

‘দেড়শত বৎসর পূর্বে বাঙালি বিদেশিকে ভারতের বক্ষে প্রবেশের পথ দেখিয়েছিলো। সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত বিংশ শতাব্দীর বাঙালিকে করতে হবে। বাঙলার নর-নারীকে ভারতের লুপ্ত গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। কি উপায়ে এই কার্য সু-সম্পন্ন হতে পারে এটাই বাঙলার সর্বপ্রধান সমস্যা। বাঙালি জাতীয় জীবনের অন্য সব ক্ষেত্রে অগ্রণী না হলেও আমার স্থির বিশ্বাস যে, স্বরাজ সংগ্রামে বাঙলার স্থান সর্বাগ্রে। আমার মনের মধ্যেও কোনো সন্দেহ নেই যে, ভারতবর্ষে স্বরাজ প্রতিষ্ঠিত হবেই এবং স্বরাজ প্রতিষ্ঠার গুরুভার প্রধানত বাঙালিকেই বহন করিতে হইবে। অনেকে দুঃখ করে থাকেন, বাঙালি মাড়োয়ারি বা ভাটিয়া হলো না কেনো? আমি কিন্তু প্রার্থনা করি বাঙালি যেনো চিরকাল বাঙালিই থাকে। বাঙালিকে এই কথা সর্বদা মনে রাখতে হবে যে, শুধু ভারতবর্ষ কেনো সারা পৃথিবীতে তার একটি স্থান আছে-এবং সেই স্থানের উপযোগী কর্তব্যও তার সামনে পড়ে রয়েছে। বাঙালিকে স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে, আর স্বাধীনতা লাভের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভারত গড়ে তুলতে হবে। সাহিত্য, বিজ্ঞান, সঙ্গীত, শিল্পকলা, শৌর্য-বীর্য, ক্রীড়া-নৈপুণ্য, দয়া-দাক্ষিণ্য-এই সবের ভিতর দিয়ে বাঙালিকে নতুন ভারত সৃষ্টি করতে হবে। জাতীয় জীবনের সর্বাঙ্গীন উন্নতি বিধান করবার শক্তি এবং জাতীয় শিক্ষার সমস্বয় করবার প্রবৃত্তি একমাত্র বাঙালিরই আছে।

গত দুই তিন বৎসর ধরে বাংলাদেশে যে জাগরণের বন্যা এসেছিলো সে বন্যা এখন ভাঁটার দিকে চলেছে বটে, কিন্তু জোয়ারের আর বেশি বিলম্ব নাই। বাংলাদেশে জাতীয়তার স্রোতে আবার প্রবল বন্যা আসবে। সে বন্যার স্পর্শে বাঙলার প্রাণ আবার জেগে উঠবে। বাঙালি সর্বস্ব পণ করে আবার স্বাধীনতার জন্য পাগল হয়ে উঠবে, দেশ আবার স্বাধীনতা লাভের জন্য বদ্ধপরিকর হবে।

ভাই, তোমরা সকলে কি আত্মবলির জন্য প্রস্তুত আছো? এসো, হে আমার তরুণ জীবনের দল, তোমরাই তো দেশে দেশে মুক্তির ইতিহাস রচনা করেছো। আজ এই বিশ্বব্যাপী জাগরণের দিনে স্বাধীনতার বাণী যখন চারিদিকে ধ্বনিত হচ্ছে তখন কি তোমরা ঘুমিয়েই থাকবে?

ওগো বাঙলার যুব সম্প্রদায়, স্বদেশ সেবার পূণ্যযজ্ঞে আজ আমি তোমাদের আহ্বান করছি। তোমরা যে যেখানে যে অবস্থায় আছো, ছুটে এসো। চারিদিকে বাঙলা মায়ের মঙ্গল শঙ্খ বেজে উঠেছে।’[৫]

১৯২৪ সালে কোলকাতা পৌর কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরেই তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকতা নিয়োগ দিবেন। এই পদে থেকে বাঙলার বিপ্লবীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা সহজ হবে ভেবেই দেশবন্ধু প্রধান নির্বাহী পদে সুভাষ বসুকে নিয়োগ প্রধান করেন।

কর্পোরেশনের দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাস যেতে না যেতেই বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮১৮ সালের ৩নং ধারার বলে ১৯২৪ সালের অক্টোবর মাসে সুভাষকে বন্দি করা হয়। পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরের নথিপত্র থেকে জানা যায়:

‘১৯২৪ সালে স্বরাজ্য দলের বিপ্লবী সদস্যগণ কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী পদের জন্য সুভাষ বসুকে সমর্থন করেছিলেন এবং এটা লক্ষ্যণীয় যে, তাঁর ওই পদের নিয়োগের পর কর্পোরেশনে অগণিত বিপ্লবীদের চাকুরি দেয়া হয়েছিলো। এই সময় সুভাষ বসু ও বিপ্লবীদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিলো যে, সুভাষ তাঁর নির্দেশ মতো বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস পরিচালনা করবেন।’[৬]

বিপ্লবীদের সঙ্গে সুভাষের এই ঘনিষ্ঠতার কিভাবে সেদিন পুলিশের পক্ষে জানা সম্ভব হয়েছিলো তাও পুলিশের গোপন নথিতে উল্লেখ করা আছে:

‘১৯২৪ সালের প্রথম দিকে কংগ্রেসের একজন বিখ্যাত নেতা জনৈক উচ্চপদস্থ এক সরকারি কর্মকর্তার কাছে স্বীকার করেছিলেন যে, বাংলাদেশে একটি বৈপ্লবিক আন্দোলনের অস্তিত্ব আছে, যারা স্বরাজ্য দলের মুখোশ পড়ে রয়েছেন। ওই সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের পুরো নিয়ন্ত্রণ করছেন সুভাষ বসু।’[৭]

এর পূর্বেই ১৯২৩ সালে বিখ্যাত বিপ্লবী হরিকুমার চক্রবর্তী, সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ ও ভূপেন্দ্র কুমার দত্তসহ কয়েকজন বিপ্লবীকে একই কারণে গ্রেফতার করা হয়। এই সময় আটককৃত অন্যান্য বিপ্লবীদের সাথে সুভাষ বসুকে বার্মার (বর্তমান মায়ানমার) মান্দালয় জেলে প্রেরণ করা হয়।

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ সুভাষ বসু ও অন্যান্য বিপ্লবী নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে তাঁর বাড়িতে নিখিল ভারত কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির একটি সভা আহ্বান করেন। এই সভায় দেশবন্ধু তীব্র কণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন:

‘If love of country is crime, i am a criminal. If Mr. Subhas Chndra Bose is criminal, i am a criminal, not only the chief executive officer of the corporation, but the mayor of this corporation is equally guilty.’[৮]

তথ্যপঞ্জি:

৩.    যুবকদের প্রতি সুভাষ বসুর লিফলেট, মে ১৯২২
৪.    আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৩ ডিসেম্বর ১৯২২
৫.    আনন্দবাজার পত্রিকা, ১২ ডিসেম্বর ১৯২৪
৬.    ব্রিটিশ পুলিশের গোপন নথি, কোলকাতা ১৯২৪
৭.    ব্রিটিশ পুলিশের গোপন নথি, কোলকাতা ১৯২৪
৮.    নেতাজী সঙ্গ-প্রসঙ্গ, নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী, আনন্দ পাবলিশার্স, কোলকাতা ১৯৭৩

জেলে থাকাকালে ১৯২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখে সুভাষ বসু’র একটি নিবন্ধ ছাপা হয় ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’তে, এই নিবন্ধে সুভাষ জোড়ালো কণ্ঠে বলে উঠেন, ভারতের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার কথা:

‘যে জাতির অস্তিত্বের আর সার্থকতা নেই, যে জাতির প্রাণের স্পন্দন একেবারে নিঃশ্বেষ হয়েছে সে জাতি ধরাপৃষ্ঠ থেকে লোপ পায়। অথবা কীটপতঙ্গের মতো কোনো প্রকারে জীবন ধারণ করতে থাকে।

ভারতের একটি বাণী আছে যেটা জগৎসভায় শোনাতে হবে। ভারতের শিক্ষার মাঝে এমন কিছু আছে যা বিশ্বমানবের পক্ষে অতি প্রয়োজনীয় এবং যা গ্রহণ না করলে বিশ্ব সভ্যতার প্রকৃত উন্মেষ ঘটবে না। শুধু তাই না, বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাহিত্য, ব্যবসা-বাণিজ্য এসব ক্ষেত্রেও আমাদের জাতি এই জগৎকে কিছু দেবে, কিছু শিখাবে।

দেশান্তরে কারাবাসে মাসের পর মাস যখন কাটিয়েছি তখন প্রায়ই এ প্রশ্ন আমার মনে উঠতো কিসের জন্য, কিসের উদ্দীপনায় আমরা কারাবাসের চাপে ভগ্নপৃষ্ঠ না হয়ে আরো শক্তিমাণ হয়ে উঠছি। নিজের অন্তরে যে উত্তর পেতাম তার মর্ম এই যে, ভারতের একটা মিশন আছে, একটা গৌরবময় ভবিষ্যত আছে। সেই ভবিষ্যত ভারতের উত্তরাধিকারী আমরাই। নতুন ভারতের মুক্তির ইতিহাস আমরাই রচনা করছি এবং করবো। এই শ্রদ্ধা এই আত্মবিশ্বাস যার আছে, সেই ব্যক্তি সৃষ্টিক্ষম, সেই ব্যক্তি দেশসেবার অধিকারী।

অনেকে মনে করেন যে, দুঃখের মধ্যে বুঝি শুধুই কষ্ট আছে, কিন্তু এই কথা সত্য নয়। দুঃখের মধ্যে যেমন কষ্ট আছে, তেমনি দুঃখের মধ্যেও আছে অপার আনন্দ।

নীলকণ্ঠকে আদর্শ করে যে ব্যক্তি বলতে পারে আমার মধ্যে আনন্দের উৎস খুলে গেছে, তাই আমি সংসারের সকল দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা-ক্লেশ মাথায় তুলে নিচ্ছি, কারণ এর ভেতর দিয়ে আমি সত্যের সন্ধান পেয়েছি, সেই ব্যক্তির সাধনাই সিদ্ধ হইয়াছে।’[৯]

১৯২৭ সালে মান্দালয় জেল থেকে লিফলেট আকারে সুভাষের আরেকটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। সেখানে সুভাষ লেখেন:

‘নিজের জীবন পূর্ণরূপে বিকশিত করিয়া ভারত মাতার পদতলে অঞ্জলিস্বরূপ নিবেদন করিবো এবং আন্তরিক উৎসর্গের ভিতর দিয়ে পূর্ণতর জীবন লাভ করিবো, এই আদর্শের দ্বারা আমি অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম।

আমার এই ক্ষুদ্র অথচ ঘটনাবহূল জীবনে যে সকল ঝড় আমার উপর দিয়া বহিয়া গিয়াছে, বিঘ্ন বিপদের সেই কষ্টিপাথর দ্বারা আমি নিজেকে সূক্ষ্মভাবে চিনিবার ও বুঝিবার সুযোগ পাইয়াছি।

এই নিবিড় পরিচয়ের ফলে আমার প্রত্যয় জন্মিয়াছে যে, যৌবনের প্রভাবে যে কণ্টকময় পথে আমি জীবনের যাত্রা শুরু করিয়াছি, সেই পথে শেষ পর্যন্ত চলিতে পারিবো। অজানা ভবিষ্যতকে সম্মুখে রাখিয়া যে ব্রত একদিন গ্রহণ করিয়াছিলাম তাহা উদযাপন না করিয়া বিরত হইবো না।

আমার সমস্ত প্রাণ ও সারা জীবনের শিক্ষা নিংড়াইয়া আমি সত্য পাইয়াছি, পরাধীন জাতির শিক্ষা-দীক্ষা-কর্ম সকলই ব্যর্থ; যদি তাহা স্বাধীনতা লাভের সহায় বা অনুকূল না হয়। তাই আজ আমার হৃদয়ের অন্তরতম প্রদেশ হইতে এই বাণী নিরন্তর আমার কানে ধ্বনিত হইয়া উঠিতেছে, ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় রে কে বাঁচিতে চায়?’[১০]

এইসময় মান্দালয় জেলে থাকাকালে আটককৃত বিপ্লবীদের সাথে সুভাষের সম্পর্ক ঘনিষ্ট থেকে ঘনিষ্টতর হয়। ১৯২৫ সালের ১৬ জুন তাঁর রাজনৈতিক গুরু দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মারা যান। এই বিয়োগান্তক ঘটনায় সুভাষ ভেঙে পড়েন।

জেলে থাকাকালেই ১৯২৬ সালে সুভাষ বেঙ্গল এসেমব্লিতে সদস্য নির্বাচিত হন।  ১৯২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত সুভাষ মান্দালয় জেলে বন্দি ছিলেন।

জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে তিনি যুব সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতৃত্বে আসেন এবং ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তখন থেকেই বাঙলায় কংগ্রেস রাজনীতিতে দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়, একটি জে এম সেনগুপ্তের, অন্যটি সুভাষ বসুর। একই সাথে সর্বভারতীয় কংগ্রেসেও সুভাষের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় স্বয়ং গান্ধীর থেকেও বেশি। সেই সাথে সুভাষ যুব সম্প্রদায়ের প্রাণের নেতায় পরিণত হন।

সুভাষ সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাধারণ জনতা তাঁকে সংবর্ধনা দিতে থাকেন। এইসব সংবর্ধনা সভায় সুভাষ যুব সম্প্রদায়কে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আহ্বান জানান। ১৯২৮ সালের ১ মার্চ অ্যালবার্ট হলে ছাত্রদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুভাষ বলেন:

‘বলা বাহুল্য, স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতবর্ষে যুবকদের সাথে আমি একমত। দেশে যারা আশার পাত্র তাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত যে কোন আন্দোলনে আমি তাদের চরণে নিজের জীবন দেবো। তরুণদের উপর আমার আস্থা আছে। আমি সুনিশ্চিত যে এই অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে সাফল্যে সঙ্গে তারা উত্তীর্ণ হবেন।’[১১]

১৯২৮ সালের ২ মার্চ মহীশুর পার্ক প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় আগত নারীদের উদ্দেশ্যে সুভাষ জোড় গলায় বলেন, ভারতবর্ষের স্বাধীনতার কথা:

‘ভারতবর্ষ একসময় জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, বস্ত্র, জ্বালানী, লবণ, তেল উৎপাদনে গৌরবজনক অবস্থানে ছিলো। তখন নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যেতো। এমনকি একশ’ বছর আগেও আমাদের সমৃদ্ধ বস্ত্রশিল্প ছিলো।

আমি মায়েদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি যে, আপনারা ব্রিটিশ পণ্য স্পর্শ করবেন না, এই দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করে আরো একবার প্রমাণ করুন যে হাত শিশুর দোলনায় দোল দিয়েছে সেই হাতই বিশ্ব শাসন করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, স্বদেশির শপথ আপনারা যদি রক্ষা করেন তাহলে স্বাধীনতা লাভ করতে দেরি হবে না।’[১২]

১৯২৮ সালের ৪ মার্চ, বাকুড়ায় স্থানীয় নারীদের একটি বিশাল সমাবেশে সুভাষ বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলে উঠেন ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের কথা, স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীদের বলিষ্ঠ ভূমিকার কথাও বলেন সুভাষ:

‘আমরা বিদেশিদের শোষণের অসহায় শিকার। যদি পৃথিবীর বুক থেকে ভারতীয় জাতিকে বিলুপ্ত হতে না হয়, তাহলে এই অবস্থার অবসান ঘটাতেই হবে। এই রকম জায়গায় নতুনদের কোনোরকম আত্মত্যাগ করতে কুণ্ঠিত হলে চলবে না। এমন কি, লক্ষ্যবস্তুর অনুসরণ করতে গিয়ে যদি আত্মবিলুপ্তি ঘটে তাও স্বীকার করে নিতে হবে।

আমি আপনাদের কাছে বিদেশি বস্ত্র বয়কটের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। মহিলারা যদি আন্তরিকভাবে বয়কট আন্দোলনের ভারবহন না করেন তাহলে এই আন্দোলনকে সফল করে তোলার পক্ষে যাদের যোগ্যতা সর্বাধিক তাদেরই সমর্থনের অভাবে আমাদের সকল প্রয়াস ব্যর্থ হয়ে যাবে। আপন সংসারে বাঙালি নারী মর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত। তাকে অমান্য করে এমন পুরুষ কোথায়…?’[১৩]

১৯২৮ সালের ৫ মার্চ, বাকুড়ায় পৌরসভা, জেলাবোর্ড ও নাগরিক কমিটি আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত সকলকে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করতে বলেন সুভাষ। একই দিনে বাকুড়ার অভয় আশ্রমে এক সংবর্ধনা সভায় যুবকদের শারীরিক ও মানসিক গঠন এবং দেশপ্রেমে সিক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

তথ্যপঞ্জি:

৯.    আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২৬
১০.  সুভাষের লিফলেট, মান্দালয় জেল ১৯২৭
১১.  আনন্দবাজার পত্রিকা, ৩ মার্চ ১৯২৮
১২.  আমি সুভাষ বলছি, শ্রী শৈলেশ দে, দে’জ পাবলিশার্স; কোলকাতা ১৯৭৩
১৩.  আমি সুভাষ বলছি, শ্রী শৈলেশ দে, দে’জ পাবলিশার্স; কোলকাতা ১৯৭৩

১৯২৮ সালের ডিসেম্বরে কোলকাতা কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এই কংগ্রেস উপলক্ষ করে সুভাষ সারা বাঙলার বিপ্লবীদের সংগঠিত করেন এবং বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স নামে একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেন, সুভাষ নিজেই এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর জিওসি’র দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এই বাহিনীর অন্তর্ভূক্ত ছিলো পদাতিক বাহিনী, নারী বাহিনী, মোটরসাইকেল বাহিনী, এবং মেডিকেল কোর বাহিনী। ওই সময় ১৯২৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় এই বিষয়ে সম্পাদকীয়তে বলা হয়:

‘স্বেচ্ছাসেবকদিগের নিয়মানুবর্তিতা প্রশংসনীয়। শ্রীযুক্ত সুভাষ চন্দ্র বসু সর্বদা উপস্থিত থাকিয়া তাহাদিগকে জাতির সেবায় উদ্বুদ্ধ করিয়া তুলিতেছেন, এই জন্য শ্রীযুক্ত বসু ধন্যবাদার্হ্য। সায়াহ্নের সঙ্গে সঙ্গে কুচকাওয়াজের মাঠে ঢাক ও বিউগল বাজিয়া ওঠে, উহাতে আসন্ন যুদ্ধের একটা উৎসাহজনক ভাব লোকের মনে জাগিয়া ওঠে।’[১৪]

১৯২৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর আনন্দবাজার পত্রিকা পুনরায় লিখলো:

‘প্রত্যহ হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক মার্চ করিতেছে এবং অশ্বারোহী দলকে শিক্ষিত করা হইতেছে। স্বেচ্ছাসেবিকাগণ জয়ঢাক ও বিউগল বাজাইয়া প্যারেড করিতেছে। দেশবন্ধু নগরের দিকে অবিরাম জনস্রোত বহিতেছে। সেখানে রীতিমতো উৎসবের সাড়া পড়িয়া গিয়াছে।’[১৫]

কয়েক হাজার সদস্যের এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দ্বারা সামরিক কায়দায় সজ্জিত হয়ে সুশৃঙ্খলভাবে সুভাষ কংগ্রেস মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এই সময় সুভাষ কংগ্রেস সভাপতি মতিলাল নেহেরু’কে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরোক্ষভাবে এখানে তিনি একটি সামরিক বাহিনীর মহড়া প্রদর্শন করেন। এই বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সই তখনকার কংগ্রেসের ছায়া সামরিক বাহিনী হিসেবে কাজ করে। এই বাহিনীই পরবর্তীকালের আজাদ হিন্দ ফৌজ’র অঙ্কুর। ১৯২৮ সাল থেকেই এই বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স বাহিনীই সারা বাঙলার বিপ্লবী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে থাকে।

সম্মেলনের অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের বক্তব্যের পর কংগ্রেসের সভাপতি মতিলাল নেহেরু তার ভাষণে বলেন:

‘স্বেচ্ছাসেবক দলের অপূর্ব বিধি-ব্যবস্থা, অশ্বারোহী ও পদাতিক দলের সুশৃঙ্খল নৈপুন্য, সর্বোত্র অধিবাসীদের স্বদেশপ্রেমের যে উদ্বেল লহরী নর্তণ লক্ষ্য করিয়াছি, তাহাতে স্বরাজ্য’র স্বপ্ন আমার মনে উদিত হইয়াছে।

আমি দেখিলাম, এখানকার প্রত্যেকেই এই অনুষ্ঠানটি সফল করিবার জন্য সাহায্য-সহযোগীতা করিতেছেন। আজ মনে হইতেছে আমরা সত্যিই বুঝি স্বাধীন, ভারতভূমি বুঝি সুখ ও সম্পদশালীনী হইয়াছেন। আপনারা আজ প্রমাণ করিয়াছেন যে, আপনারা সত্যিই দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সম্পদের যোগ্য অধিকারী। সেই অধিকারের বলেই স্বরাজ নিশ্চই আপনাদের করতলগত হইবে।’[১৬]

বিভিন্ন রাজ্যের কংগ্রেস নেতারা সুভাষের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু খুশী হতে পারলেন না একজন। তিনি হলেন অহিংস নীতির প্রবক্তা স্বয়ং মহাত্মা গান্ধী। বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স-এর সর্বাধিনায়কের বেশে সুভাষের ওই তেজদীপ্ত চেহারাটাকে এতোটুকুও প্রসন্ন দৃষ্টিতে দেখতে পারলেন না মহাত্মা গান্ধী। তাই প্রকাশ্য ভাষণে তিনি বললেন, ‘এতো পার্ক সার্কাসের সার্কাস’। কেউ কেউ একটু এগিয়ে গিয়ে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর সাথে কণ্ঠ মিলালেন; ‘খোকা ভগবান’ বলে কটুক্তি করলেন সুভাষকে। আসলে ওরা কেউই চাননি বাঙালিদের মধ্য থেকে একজন নেতা উঠে আসুক।

বিপ্লবী ভূপেন্দ্র কিশোর রক্ষিত রায়’র ভাষায়:

‘কলিকাতা কংগ্রেস অধিবেশন বিপ্লবী ভারতের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কংগ্রেসের এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীই হলো আজাদ হিন্দ ফৌজ’র মূল ধারা।’[১৭]

বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স বাহিনীর অগ্রভাগে ছিলেন, বিপ্লবী হেমচন্দ্র ঘোষ, সত্যরঞ্জন বকশী, সত্যগুপ্ত, মাস্টারদা সূর্যসেন, পূর্ণ দাস, যতীন দাস, পঞ্চানন চক্রবর্তী, প্রতুল ভট্টাচার্য, জগদীশ চ্যাটার্জী, বিনোদ চক্রবর্তী, যতীশ জোয়ার্দার, বিনয় বসু, দীনেশ গুপ্ত, ননী চৌধুরী, সৌরভ ঘোষ, অনন্ত সিংহ, গনেশ ঘোষ, লোকনাথ বল, আবদুল খালেক প্রমুখ বিপ্লবীগণ এই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন। নারীদের গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন কর্নেল লতিকা বসু।

এই অধিবেশনে মতিলাল নেহেরু যখন গান্ধী প্রণিত ডোমেনিয়ন স্ট্যাটাস লাভের জন্য প্রস্তাব রাখেন, সুভাষ তখন প্রতিবাদ করেন। বাঙলার পতিনিধি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালেন সুভাষ। সুভাষ দীপ্ত কণ্ঠে বললেন:

‘ওই আধখানা স্বাধীনতা আমি চাইনে, আমি চাই পূর্ণ স্বাধীনতা। যে স্বাধীনতায় কেনো খাদ নেই, শর্ত নেই; আছে স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেবার অধিকার।’[১৮]

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরে উল্লেখিত বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স বাহিনীর অগ্রভাগে যাঁরা ছিলেন সেই টিমে আমার দাদা আবদুল খালেক’র নামও এসেছে খোদ বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স বাহিনী’র নথিপত্র থেকে। আমি গর্বিত একজন মহান ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবীর উত্তরসূরি হতে পেরে।)

তথ্যপঞ্জি:

১৪.    আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৮ ডিসেম্বর ১৯২৮
১৫.    আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৯ ডিসেম্বর ১৯২৮
১৬.    আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৯ ডিসেম্বর ১৯২৮
১৭.    বাঙলায় বিপ্লববাদ, নলিনী কিশোর গুহ আনন্দ পাবলিশার্স; কলকাতা ১৯৭৬
১৮.    আমি সুভাষ বলছি, শ্রী শৈলেশ দে, দে’জ পাবলিশার্স; কলকাতা ১৯৭৩

৬নং

সুভাষের তেজদীপ্ত প্রতিবাদের পরে নেহেরু স্বাধীনতা দাবির সংশোধনী আনেন। এই নেহেরুই তার রাজনৈতিক জীবনে কতোবার যে নিজেকে কমিউনিস্ট ও বিপ্লবী বলে বিবৃতি দিয়েছেন তার হিসেব নেই। এবারও তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে সুভাষকে সমর্থন জানালেন। কিন্তু যখন ভোট গ্রহণ শুরু হলো তখন তিনি গান্ধীবাদী হয়ে গেলেন। ওই ভোটেই সুভাষ হেরে গেলেন ১৩৫০-৯৭৩ ভোটের ব্যবধানে। এই হার নীতিগত কারনে হয়নি, হয়েছিলো গান্ধীর কারনে। ভোট গ্রহণের পূর্বে একটি আশঙ্কার কথা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো প্রতিনিধিদের মধ্যে যে, ভোটে গান্ধী পরাজিত হলে নাকি কংগ্রেস ত্যাগ করে দূরে সরে যাবেন। ফলে উপস্থিত প্রতিনিধিগণ গান্ধীকে হারানোর ভয়ে যা করার তা-ই করলেন।

এই ভোটের পরেই সুভাষ তরুণদের আহ্বান জানিয়ে একটি তেজদীপ্ত ভাষণ দিলেন:

‘ভারতের যুবকেরা এখন হইতে আর প্রবীণ পক্বকেশ নেতাদের স্কন্ধে সব ভার নিক্ষেপ করিয়া জোড় হস্তে মূক মেষপালের মতো অনুগমন করিতে প্রস্তুত নহে। তাহারা বুঝিয়াছে স্বাধীন ও শক্তিমান ভারত তাহারাই গড়িবে। সেই দায়িত্ব তাহারা গ্রহণ করিয়াছে।

সবরমতী ভাবধারা তাহার প্রচারমুখে এই ধারণা জন্মাইবার চেষ্টা করিতেছে যে, আধুনিকতা খারাপ, কল-কারখানায় পর্যাপ্ত দ্রব্যজাত পণ্য তৈরি করা অন্যায়, অভাব বৃদ্ধি না করা অনুচিত, জীবনযাত্রার প্রয়োজন ও প্রাচুর্য বর্ধিত করা উচিত নহে। সর্ব প্রযত্নে গরুর গাড়ির যুগে ফিরিয়া যাওয়াই শ্রেয় এবং দৈহিক উন্নতি অথবা সামরিক শিক্ষাকে অগ্রাহ্য করিয়া কেবল আত্মার উন্নতি সাধনই লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ভারতে আমরা আজ কর্মযজ্ঞের সন্ধান চাই। আমাদের বর্তমানে যুগের সহিত সামঞ্জস্য করিয়া বাঁচিতে হইবে। আমরা সর্বদ্বাররুদ্ধ জগতের কোণে বাস করিতে পারিবো না। তাই বলছি, গরুর গাড়ির দিন চলিয়া গিয়াছে। স্বাধীনতা আদায়ের লক্ষ্যে ভারতমাতাকে সর্বদা অস্ত্রে-বর্মে সুসজ্জিত থাকতে হইবে।’[১৯]

সত্যরঞ্জন বক্সী ১৯২৯ সালের ২ জানুয়ারি ফরোয়ার্ড পত্রিকায় লেখেন:

‘গান্ধীর ডোমেনিয়ন স্ট্যাটাসের খসড়া তৈরি করার পরে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হিসেবে যখন গান্ধীজী সুভাষকে স্বাক্ষর করতে বললেন তখন সুভাষ তাতে রাজী হলেন না। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বললেন, আমার দাবী এই আধখানা স্বাধীনতা নয়, পূর্ণ স্বাধীনতা। এ ব্যাপারে কোনো রকম আপোষ করতে আমি রাজী নই।’[২০]

১৯২৮ সালের ওই অধিবেশন ছিলো বিপ্লবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা ছিলো অহিংসবাদী ও আপোষকামী কংগ্রেস এবং সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীদের মিলিত একটি অধিবেশন। একসময় এই বিপরীতধর্মী স্রোতের মাঝে সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। তাঁর অবর্তমানে এগিয়ে এলেন তাঁরই রাজনৈতিক শিষ্য সুভাষ বসু। সুভাষের ডাকে অনুশীলন, যুগান্তর, আবদুল খালেক’র ফরিদপুরের সন্ত্রাসবাদী দল, পূর্ণ দাসের শান্তিসেনা, হেমচন্দ্র ঘোষের মুক্তিসংঘ, সূর্য সেন’র দল এবং উত্তর বঙ্গের দলগুলো, অনীল রায় ও লীলা রায়ের দীপালি সংঘসহ বাঙলার প্রায় সকল বিপ্লবী সংগঠনগুলো এই অধিবেশনে যোগ দেয়।

কংগ্রেস ওই অধিবেশন শেষে ভাবলো বিপ্লবীদের বাদ দিয়ে বাঙলার মন জয় করা সম্ভব নয়, বাঙলায় কংগ্রেসকে শক্তিশালী করাও সম্ভব নয়। বিপ্লবীরা মনে করলো কংগ্রেস সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান। এই প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ভারতের মুক্তিকামী জনগণকে বিপ্লবের উপযোগী করে গড়ে তোলা যতোটা সহজ, ততোটা কোনো আন্ডাগ্রাউন্ড পার্টির ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

১৯২৯ সালের ১১ মে চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেস-এর যুব সম্মেলন উপলক্ষে সুভাষ চট্টগ্রাম যান। সেখানে অনন্ত সিং, গনেশ ঘোষ ও ত্রিপুরা সেনের সাথে কংগ্রেস এবং ভলান্টিয়ার্স বাহিনী নিয়ে আলোচনা করেন। সম্মেলনের পরে তিনি সেখানে একটি কর্মীসভা করেন। চট্টগ্রামে সেনগুপ্ত ও সুভাষ গ্রুপের সংঘর্ষে বিপ্লবী সুখেন্দু কলকাতার হাসপাতালে মারা গেলে সুভাষ খালি পায়ে কলকাতা শহরে শব মিছিলের নেতৃত্ব দেন।

এই বছরই তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। এই সময় নোয়াখালী জেলার এক যুব সম্মেলনে ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে লাহোর ষড়যন্ত্রের আসামী শহীদ বিপ্লবী যতীন দাস-এর কথা উল্লেখ করে সুভাষ বলেন:

‘…বাংলাদেশের যুব সমাজের ভিতর থেকে সহস্র সহস্র যতীন দাস আমরা চাই, যারা তার আত্মোৎস্বর্গের ভাবকে রূপায়িত করবে। তীব্র জাতীয় চেতনাসম্পন্ন নতুন একদল যুবক আমাদের অবশ্যই চাই। কারণ, তারাই ভবিষ্যৎ ভারতবর্ষকে নির্মাণ করবে। যে ভারতবর্ষে কৃষক-শ্রমিক নির্বিশেষে সকল নর-নারী স্বাধীনতার আশীর্বাদ উপভোগ করবে।

আপনাদের আমি আহ্বান করছি অদূর ভবিষ্যতে কি কি গৌরবময় ভূমিকা আপনাদের গ্রহণ করতে হবে তা অনুভব করুন। তারপর আপনারা অগ্রসর হয়ে চলুন একটি মাত্র ভাবনা নিয়ে, মাতৃভূমির মুক্তিব্রতই আমার একমাত্র কর্তব্য।’[২১]

১৯২৯ সালে লাহোরে কংগ্রেসের অধিবেশন আহ্বান করা হলো। এই কংগ্রেসেই সুভাষের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব পাশ হয়। কলকাতা কংগ্রেসে না মানলেও এবারই প্রথম মহাত্মা গান্ধী নিজ থেকেই স্বাধীনতার প্রস্তাব পেশ করলেন। সেই সঙ্গে আরো সিদ্ধান্ত নেয়া হলো যে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে এই দাবী মেনে নিতে হবে। দাবী না মানলে শুরু হবে লাগাতার আইন অমান্য আন্দোলন।

সুভাষ বসু এই এই অধিবেশনে মহাত্মা গান্ধীর প্রস্তাবে সংশোধনী এনে ভাষণ দেন। সংশোধনীতে সুভাষ বলেন:

‘ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও তার ভারতীয় অনুচরদের অপসারিত করে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভের উদ্দেশে এই কংগ্রেস ভারতবর্ষে একটি পাল্টা সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীনতার অনুকূলে অবিরাম প্রচার অভিযান চালানোর প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। …আমি চরমপন্থী, আমার নীতি হলো হয় সবটা চাই, নয়তো কিছুই চাই না।’[২২]

কিন্তু গোল বাঁধলো মহাত্মা গান্ধীর পরবর্তী একটি বক্তব্য নিয়ে। দেখা গেলো মহাত্মা গান্ধী মুখে পূর্ণ স্বাধীনতার কথা বললেও, তিনি মনে-প্রাণে চাইছেন ডোমেনিয়ন স্ট্যাটাস।

তীব্র প্রতিবাদে ফেঁটে পড়লেন সুভাষ। মহাত্মা গান্ধীর সেই একঘেঁয়ে পুরনো কথা, সেই পুরনো দাবী! স্বাধীনতার প্রশ্নে শুধু সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়। সুভাষের ভাষায়, ‘স্বাধীনতা শিশুর হাতের খেলনা নয়, চাইলেই তা পাওয়া যায় না। তার জন্য মূল্য দিতে হয়, সংগ্রাম করতে হয়। কোথায় তার প্রস্তুতি?’

তথ্যপঞ্জি:

১৯.    মুভমেন্ট ইন ইন্ডিয়া, রমেশচন্দ্র মজুমদার, আনন্দ পাবলিশার্স; কলকাতা ১৯৬৫
২০.    সত্যরঞ্জন বক্সী’র নিবন্ধ, ফরোয়ার্ড পত্রিকা; ২ জানুয়ারি ১৯২৯
২১.    ভারতের বৈপ্লবিক সংগ্রামের ইতিহাস, সুপ্রকাশ রায়, দে’জ পাবলিশার্স; কলকাতা ১৯৮৭
২২.    মৃত্যুঞ্জয়ী, তথ্য-সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার; ভারত, মার্চ ১৯৮২

চলবে

gyuguখালাকে বিশাল শপিং প্লাজার লিফটের পাশে একটি ফাষ্টফুড দোকানে নাস্তার অর্ডার দিয়ে ভাই তার গাড়ী চড়ে চলে গেলেন।যাবার সময় বলে গিয়েছিলেন ফুলী কিছু ক্ষণ সময়ের মধ্যেই ঐ লিফটে নেমে আসবেন,ততক্ষণে সে আরেকটি কাজ শেষ করে এখানে আবার আসবেন।
সেই সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে এলো কৈ ফুলীরতো আসার কোন লক্ষণই দেখছেন না খালা।খুবই চিন্তায় পড়ে গেলেন নিজের মেয়ের মতো ফুলীকে সে আগলে রেখেছিল..ফুলীও তাকে মায়ের মতো ভালবাসে শ্রদ্ধা করেন…ফুলী যখন তার রোজগারের প্রথম টাকাটা খালার হাতে দিলেন, সেই দিন থেকেই খালা ফুলীকে নিজের সন্তানের মতো লালন পালন করতে লাগলেন।তবে ফুলী শর্ত দিয়েছিলেন, খালা যদি তার সাথে থাকতে চান তবে তাকে সমাজে ঘৃণিত পেশা পতিতার সরদারনীগিরি ছাড়তে হবে।সে দিন খালা তার কথা শুনে বদলে গিয়েছিলেন সেই থেকে আজ পর্যন্ত কখনো তাকে অভাব কি চোখে দেখতে হয়নি।সেই ফুলীর দুঃচিন্তায় খালার জান যেন যায় যায়।কিসের ফাষ্ট ফুডের খাবার, পেটে কি তা যায় নাকি!খাবারের ফাকে ফাকে লিফটের দিকে তাকায় সে বার বার।
খাবার সেরে খালা শপিং প্লাজার প্রবেশ পথের বিশালাকার সিড়িতে পায় চারি করছেন আর বার বার তাকাচ্ছিলেন লিফটের দিকে হঠাৎ চোখে পড়ল সেই মেয়েটি যিনি তাদের সাথে এসেছিলেন এবং ফুলীকে নিয়ে বিল্ডিংয়ের উপরে লিফটে গিয়েছিলেন।পরক্ষণে আবার থমকে যান খালা,মেয়েটিতো সালোয়ার কামিজ পড়া ছিল, কাপড় পড়াতো ছিল না কিন্তু… মেয়েটির মুখবয়তো বলে সেই মেয়েটিই এইটি ।দীর্ঘ পথ গাড়ীতে এক সাথে আসা মুখটিতো এতো সহজেই ভূলে যাবার খালা সে নয়।সে দৌড়ে মেয়েটির সামনে গিয়ে দাড়াল।তাকে দেখে মেয়েটি কেমন যেন নারভার্য হয়ে গেলেন।
-এই মেয়ে তুমিইতো সেই মেয়েটিই!
খালা আবারো তার মুখের দিকে ভালো করে তাকায়…হ্যা সে-ইতো তুমি!
-কি আবোল তাবল বলছেন আপনি,…পথ ছাড়ুন আমার কাজ আছে,যেতে হবে দ্রুত।
-হুম!ঠিক আছে,তা ফুলীকে কোথায় রেখে এসেছো?
-কে ফুলী?কোথাকার ফুলী?….ফুলী নামে আমিতো কাউকে চিনি না।
-চিনো না হু,চিনো না…চলো ..তোমারে চিনাচ্ছি।
খালা মেয়েটির কাপড়ের আচলঁ ধরে টান দিলেন।টানে মেয়েটির বক্ষ হতে কাপড় সরে পড়ে।আশে পাশে লোক জন ততক্ষণে জমে হা করে তাকিয়ে তামাশা দেখছেন।অবস্থা করুণ খালা কিছুতেই মেয়েটিকে ছাড়ছেন।মেয়েটিও তার পড়ে যাওয়া কাপড়ের আচলের এক ধরে টানাটানি করছেন খালা পাগলের মতো মেয়েটিকে বকছেন।ভিরের মধ্য হতে এক যুবক বের হয়ে মেয়েটির সামনে এসে নাম ধরে ডাকেন।
-স্বর্না,তুমি!কি হচ্ছে এখানে?
মেয়েটি কেদেঁ দেন অপমানের সকল রাগ যেন তার কণ্ঠ হতে বের হতে থাকে।খালা ‘থ খেয়ে যায় তাহলে সে কি চিনতে ভূল করেছেন!আশ্চর্য হন তবে এই যুবকটি তার কি হন।যুবকটি খালার সামনে আসেন ততক্ষণে খালার হাতে মুষ্টিবদ্ধ শাড়ির আচলটি মুষ্টির ভিতর দিয়ে সরে যেতে যেতে মেয়েটির হাতে চলে যায়।
-আপনি ভূল করছেন,সে আমার ওয়াইফ।
খালা এবার পুরাই টাসকি খান।মনে মনে ভাবেন যাক বাবা চোখের জ্যোতি কি তাহলে কমে গেলো!।সে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য আমতা আমতা করেন।
-না মানে…বয়স হয়েছেতো তাই হয়তো ভূল হয়ে যায়।
মাথায় হাত দিয়ে উম্মুক্ত সিড়িতেই বসে পড়েন খালা।মেয়েটিও আর কোন কথা বাড়ালেন না ছেলেটির হাত ধরে দ্রুত এখান থেকে প্রস্থান নিলেন।কিছু দূর যাবার পর ছেলেটি মেয়েটিকে চলন্ত অবস্থায় কথা বলছেন।
-সে(ফুলী) এখন কোথায়?
-যায়গা মতো ঘুমের ইংজেকশন পুস করে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে…রাত হলেই পাড়ি জমাবে অন্য দেশে।ভালোই ইনকাম হলো আজ রাতটা কাটবে আনন্দে।
ফোনে রিং বাজছে মেয়েটির রিসিভ করে আনমনা হয়ে পড়েন।বেশ কিছুক্ষণ ফোনে কথা বলে চিন্তিত মনে হাটছেন।ছেলেটি তাকে জিজ্ঞাস করলে সে যা উত্তর দেন তাতে দু’জনের মনের ভিতর ভয় ঢুকে যায়।
-কি, কোন খারাপ সংবাদ?
-হুম!ভাইয়ের বাড়ীর চারপাশে পুলিশের পাহাড়া।
-কেনো?
-ঐ যে… ছয় সাত জন গুম হয়েছিল, তার দায় ভার সব এখন ভাইয়ের উপর পড়েছে।এবার ভাইও মনে হয় ফেসে যাবেন।এলাকার লোকজন যে ভাবে ক্ষেপেছে তাতে শেষ রক্ষা পাবেন বলে মনে হয় না।
-কোন সমস্যা নেই, এই দু’চার দিন…তারপর সব ঠান্ডা হয়ে যাবে।নতুবা এক জন অপরাধীকে বাচাতে পুলিশ কেনো তার বাড়ী পাহাড়া দিবে…এটাই ক্ষমতা…বুঝলে?
ফুলীর ঘুম ভাঙ্গে নদীর স্রোতের গর্জনে।ধীরে ধীরে চোখ খোলে চার দিক তাকাতে চোখে ঝাপসা ঝাপসা দেখছিল তার চার পাশে জড়ো হয়ে বসে আছেন বেশ কয়েকজন সমবয়সী নারী।নদীর ঢেউয়ে এক দিকে হঠাৎ কাত হওয়াতে বুঝতে পারেন যে, সে কোন এক ট্রলারে বড় কোন নদীর মাঝা মাঝি আছেন।অন্ধকারে তেমন কোন কিছু স্পষ্ট দেখতে পারছেন না সবই অনুমানের ভিত্তিতে ধারনা করছেন।বদ্ধ অন্ধকার স্থানে উপরের দিকে দু’তিন স্থানে মোটা মোটি আট দশ ইঞ্চি করে ফুটো আছে যা দিয়ে তাদের কাছে সূর্যের সরু আলো পৌছে।সেই ছিদ্র দিয়ে ফুলী তাকিয়ে দেখছেন নদীতে ঢেউ আছড়ে এসে পড়ছে তাদের ট্রলারে তখন সে বুঝতে পারেন সে এখন কোথায় আছেন।তার সাথে অন্য আরো মেয়েদের মুখ দেখে বুঝতে পারেন সে এখন নারী হয়তো পাচারকারীর হাতে বন্দী।প্রচন্ড ক্ষিদে লেগেছে ফুলীর ট্রলারে দরজা নক করাতে এক বিশাল মুছাকার বিকট মুখটি তার ডাকে দরজা খুলে প্রশ্ন করেন।
-কি হইছে?
-ক্ষিদে লেগেছে,
-পরে,…আর একটু পর আমরা নামবো একটি ঘাটে, সেখানে সবাইকে চা নাস্তা খাওয়াবো।
ফুলী দরজা নক করে চলেন আসলেন নিজের বসার স্থানে।চোখে এখন আগের চেয়ে একটু পরিষ্কার পরিষ্কার দেখছেন, প্রায় সবার মুখই দেখতে পারছেন।তাদের সাথে ছিল চার জন কিশোরী মেয়ে অবস্থা দেখে মনে হয় কোন বড় ঘরের সন্তান ওরা।ঘুম যেন ফুলীর চোখ থেকে যাচ্ছেই না আবারও সে বসার মাঝেই চোখের পাতা এক করলেন।
খালা উপায়ন্তর না পেয়ে ফুলীকে ফিরে পাবার আশা ছেড়ে নিজ এলাকায় ভাইয়ের বাড়ীতে আসতে লাগলেন তখন প্রায় সন্ধ্যা।বাসে এলাকার কাছা কাছি আসতেই বাস যেন আর চলছে না তীব্র জ্যামে দিশে হারার মত এদিক সেদিক ছুটছেন কর্ম জীবি মানুষগুলো যদিও এ জ্যাম তাদের নিত্য দিনের সঙ্গী তবুও কিছু না কিছু কারন তো জ্যামের জন্য আছেই তবে সে দিনের জ্যাম ছিল মানুষের ক্ষোভের জ্যাম।তার বাস থেকে প্রায় দুই তিন মাইল দূর ভাইয়ের আলীশান অফিস ভাংচুড় করছেন ঐক্য বদ্ধ বিক্ষিপ্ত জনতা,আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন ভাইয়ের সহযোগীর একটি তেলের পাম্প।অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ঢাকা-চিটাগাং হাইওয় রোড।খালা সে দিনের মতো ভাইয়ের সাথে দেখা করতে পারেননি।

ট্রলারে অন্য সব মেয়েদের ট্রলার থেকে নামবার শব্দে ফুলীর ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং অনুভব করেন ভোরের একটি নির্মল সকাল।ট্রলারের গায়ে লাগানো লাগানো ছিল বন ভোজনের ব্যানার।যে ঘাটে গিয়ে থামল ট্রলারটি বলা চলে লোকহীন একটি পরিত্যাক্ত ঘাট কথিত আছে,এই ঘাটে লোকজন আসে না অজানা এক আতংকে। বেশ কিছু দিন পর পর এখানে মৃত মানুষের লাশ দেখতে পায় আবার লোক জন জড়ো হবার আগেই লাশটি উদাও হয়ে যায়।এমন রহস্য ঘেরা ঘাটটি সারা বছর অব্যাহৃত ভাবে পরে থাকে কেবল মাত্র অন্ধকার জগতের বাসিন্দারা এটাকে মাঝে মধ্যে ব্যাবহার করেন।
ঘন ঘন গাছ পালার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে সরু একটি যাতায়াতের রাস্তা তার আশে পাশে অথবা সম্মুখে গজানো লতাপাতা গুলোকে কেটে কেটে পথ অতিক্রম করতে হয়।তেমনি ভাবে মেয়েগুলোকে নিয়ে যাচ্ছেন কিছু অচেনা স্বদেশী পুরুষ দালাল।উদ্দ্যেশ্য এ পথের শেষে মিলবে মায়ানমারের বর্ডার,যেখানে অপেক্ষা করছেন মেয়ে মানুষের আরো এক বার্মিজ দালাল।অর্থের বিনিময়ে তাদের সেই দালালের কাছেই তুলে দিবেন।

পথে কিছুটা বিশ্রামে গেলেন দলটির দলপতি।ফুলীও যেন হাফ ছেড়ে বাচলেন কিছুটা বিশ্রাম যেন তার খুবই প্রয়োজন ছিল অনবরত হেটে চলার শক্তি যেন আর তার দেহে নেই,ঘাসের উপরে বসতে গিয়ে মনে হলো তৃষ্ণা লেগেছে তাই সে দালালকে বলে পাশেই একটি ছোট খালের মতো প্রবাহিত সম্ভবত ঝরনার জল।সেখানে গিয়ে চোখে মুখে জল ছিটাচ্ছেন আর চার পাশ তাকিয়ে দেখছেন…….
ঐতো খুব বেশী দূরে নয় ঐ যে দাড়িয়ে আছে তাল গাছটা! তার খুবই চেনা চেনা লাগছে।কেনো যেন তার মনে হচ্ছে এই জঙ্গলও তার বেশ পরিচিত।জঙ্গলের ঝরনায় প্রবাহিত জলের স্পর্শের অনুভূতির সাথে সে যেন আগ থেকেই পরিচিত ছিলেন।ফুলীর সাথে সিকুরিটি হিসাবে আসা লোকটিকে এই এলাকার নাম জিজ্ঞাসা করেন।তাতে সে অপরাগতা স্বীকার করে ধমক দেন।ধমকের সূরে সে তার সমান্য বর্ননা দেন।
-নাইংছড়ি উপজেলার ঘুম ধম ইউনিয়নের তুমব্রু বাজারে কাছাকাছি যাবো আমরা।তবে আমরা মনে হয় আমরা এসে গেছি।
তুমব্রু বাজার সে তো আমার গ্রাম তবে কি আমি আমার গ্রামে ফিরে এলাম!মনে মনে আশ্চর্য হয় সে।যে মা বাবা ভাই বোনকে গ্রামে রেখে জীবিকার খোজে চলে গিয়েছিলেন ঢাকা তার পর নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রায় দশটি বছর গ্রামে তার আর ফেরা হয়নি,হয়নি দেখা মা ভাইয়ের সাথে, এক সময় সে ভূলে যায় তার গ্রামে ফিরে যাবার পথটিও আজ সরে জমিনে দেখে পরিবারের অনেক স্মৃতিই চোখে ভাসছে তার।এত কাছাকাছি থেকেও সে তার পরিবারের দেখা পাবে না তা ভাবতে তার অন্তর নীরবেই কেদে উঠে।

ও বন্দে মায়া লাগাইছে
DrawingCanvas14296416655151429641665647পিরিতি শিখাইছে
কি জানি কি দিয়া বন্দে মায়া লাগাইছে….জেলের ভিতর বাম হাতের দু আঙ্গুলের ভাঝে জলন্ত সিগারেট টানে টানে সূরের তালে জ্বলছে কয়েদীদের জীবন।ছোটন কিছুটা দূরত্ত্বে ছোটন একাকিত্ত্বের অবসান ঘটান ভবিষৎ জীবনের চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিয়ে যদি এবারের মতো জেল হতে বের হতে পারেন তবে এ নষ্ট জীবন ছেড়ে আট দশ জন স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবন যাপন করবেন।ফুলীকে সে আর কষ্ট দিবে না তাকে নিয়ে সাজাবেন তার সংসার জীবন।ভাবনার এক পর্যায়ে তার সামনে এসে দাড়ান এক সময়কার ত্রাস ও রাজনৈতিকবিদ জুবায়ের খান।সে এখন অপজিসন পার্টির বলে জেল খাটতে হচ্ছে বিভিন্ন অস্ত্র এবং ত্রাসের মামলায়।তাকে দেখে ছোটন দাড়িয়ে তাকে সালাম দেয়।
-সালামুআলাইকুম ভাই,
-অআলাইকুম,তুমি এখানে?
-হ,ভাই ঐ যে গুম হইছে …সেই মামলায় আমাকে আটক করেন।
-হুম সমস্যা নেই সময় হলে বেড়িয়ে যাবে,,,তা তোমার ভাইয়ের খবর কি?শুনলাম গুমে নাকি তোমার ভাইয়ের হাত আছে।
সব খবরই তার জানা তবুও খবর শুনতে চাচ্ছেন ছোটনের কাছ থেকে।
-না ভাই কি যে বলেন,কিছু দিন আগে নবীর সাথে বিদ্যুতের টেন্ডার নিয়ে তার সালার সাথে ঝগড়া হয়েছিল,ভাই সেটা জানতো।
-নবীর সালাতো নবীর ব্যাবসাই দেখাশুনা করত।
-হ,তবে তার সালাও মনে মনে চাইত ব্যাবসাটা তার নিজের কি ভাবে করা যায়,সেই চিন্তায় টেন্ডারে নবীর ফার্মটা না দিয়ে নিজেরটা দিয়ে নবীর নাম ভাঙ্গিয়ে কাজটা নিজের করে নেয় তার পর হতেই তাদের সালা দুলা ভাইয়ের মাঝে গেঞ্জাম শুরু হয় অবশেষে নবী সহ আরো ছয় জন আদালতে সেই মামলার হাজিরা দিতে এসে গুম হন।
-কি জানি, আমি যতদুর জানি তোমার ভাই আরেক বড় ভাইয়ের ইশারায় ওদের গুম করে।
-হতেও পারে ভাইয়ের সাথেও নবীর দন্দ ছিল আতে ঘা লাগার মতো।
-ঠিক আছে আবার কথা হবে,কোন সমস্যা হলে জানাবে।
-ঠিক আছে ভাই,সালামুআলাইকুম।
জুবায়ের তাকে আশা দিয়ে চলে গেল।জেলের অন্যান্য কয়েদীরা অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছিল তাদের কথোপকতন।এ দিকে ফুলী রাত দিন দুশ্চিনতায় থাকেন কাজ কর্ম কিছুতেই তার মন বসে না সারাক্ষন কেবল ছোটনের কথাই মনে পড়ে, হয়তো তাকে বেশী ভালবেসে ফেলেছিল বলে।ফুলী খালাকে সঙ্গী করে ভাইয়ের সাথে দেখা করবেন বলে ভাইয়ের বাসার দিকে রওয়ানা দেন।ভাইয়ের বাসায় এসে নক করেন সেখানকার এক রক্ষিকে ভাইকে বলতে যে, ছোটনের আত্ত্বীয় এসেছেন তার সাথে দেখা করতে।কথা মতো সে ভিতর থেকে কিছুক্ষন পড় এসে তাদেরকে ভাইয়ের ড্রইং রুমে বসিয়ে চলে যান।বেশ গোছানো ড্রইং রুমটি অবৈধ পয়সায় কত কিছু দিয়ে যে সাজিয়েছেন রুমটি তা ফুলীকে ভাবিয়ে তুলে।এক সময় ভাই আসেন নিয়মানুযায়ী ফুলী ভাইকে দাড়িয়ে সালাম দেন।ভাই হাত নেড়ে বসতে বললেন।
-ভাই আমি ফুলী,ছোটনের পরিচিত।
-হুম তোমার কথা শুনেছি ছোটনের কাছে।তা…..
ঠিক সেই সময় ভাইয়ের মোবাইলে রিং বাজে।ভাইকে কে ফোন করেছেন তা দেখে রিসিভ করেন।
-কি হইছে অসি…কোন খবর?
ফোনের ওপারের কন্ঠে কথাগুলো যতই শুনছেন ততই ভাই ধীরে ধীরে বিমুর্ষ হয়ে পড়ছেন।এক সময় ভাই ফোনে উত্ত্বেজিত হয়ে পড়েন।
-মাসটা শেষ না হতেই তো মানতিটা পেয়ে যান…এবার কিছু কাজ টাজ করুন…আমার বাড়ীতে জরুরী ভিত্তিতে ফোর্স নিয়োগ করুন।
ফোনটা রেখে ভাই এবার তাদের সোফায় বসিয়ে নিজে তার বাড়ী বরাবর মেইন রাস্তায় এসে অত্যান্ত অস্থিরতায় কিছুক্ষন পায়চারি করে রক্ষিদের ভাল মতো পাহাড়া দিতে বলে আবার ভিতরে চলে যান।ভাইকে এমন অস্থির অস্থির ভাব দেখে ফুলী তাকে জিজ্ঞাসা করিতে সে এড়িয়ে যান।
-ভাই কোন সমস্যা!
-না…তবে সমস্যা মনে হয় হবে…আচ্ছা এক কাজ করুন আপনি আগামীকাল সকালেই আমার এখানে আসবেন আপনাকে নিয়ে এক মন্ত্রীর বাসায় যাবো… ছোটনের দেখি কিছু করা যায় কি না।মামলাটা বেশ বে-কায়দায় ফেলে দিবে ছোটনকে।
-সে তো আপনার কাজই করত।
-হ্যা সে জন্যইতো মায়া হয়,তবে ভয়ের কিছু নেই আমি মন্ত্রীর সাথে কথা বলে রেখেছি পূর্বেই, কাল আপনাকে নিয়ে গেলে কিছু একটা সুখবর নিয়ে আসতে পারব।
ফুলী চলে আসার পর কয়েক দফা বেশ কয়েজ জনের সাথে কথা বলেন অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল তার কোন মহা বিপদ ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।ঠিক সেই সময়ে খবর আসে তার জুয়া আর অশ্লীল যাত্রা আসরটিতে হামলা করেছে জনতা।তৎক্ষনাত বেশ মুষড়ে পড়েন ভাই।সাধারন এক ট্রাক হেলপার থেকে ভাগ্যের সুপ্রসহ্ন চক্রে অল্প কয়েক বছরে বণে যান এক ছত্র ক্ষমতাবান আর প্রতি দিন লক্ষ কোটি কোটি অর্থের মালিক তাও আপনা আপনিই খদ্দেরা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে থাকেন কেউ মাসে কেউ বা প্রতি দিন সেই টাকায় ভাগ দেন দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতান থেকে শুরু করে রিক্সাওয়ালা পর্যন্ত।

ফুলীর চোখের জল যেনো ফুরিয়ে যাচ্ছে, ভাবনার আকাশে ভঙ্গুর জীবনে আসা ভরসার দেবতাকে হারাতে বসা ফুলী যেনো অসহায়ের মতো জীবনকে ধরে রেখেছেন ধরনীতে।কখনো সুখ কখনো দুঃখ কখনো বা এর সমন্বয়ে ঘটা জীবনকে উপলব্দি করতে পারেননি অনবরত দুঃখ কষ্ট যেনো জীবনকে অসার করে দেয়,ছোটনকে ছাড়া বেচে থাকার আর কোন আগ্রহই যেন আর নেই।কিছুক্ষন পরই বেড়িয়ে পড়বেন ফুলী ভাইয়ের সাথে।ছোটনকে এ যাত্রায় বাচাতেই হবে যে করে হোক,প্রয়োজনে মন্ত্রীর পায়ে ধরে ছোটনের জীবন ভিক্ষা চাইবেন।
আজ সে ছোটনের প্রথম দেয়া নীল শাড়ীটি পড়ছেন।আয়নায় তাকাতেই ফুলী তার পিছনে খোলা পিঠে হালকা মৃদু ছোটনের হাতের স্পর্শ অনুভূত হলে চমকে গিয়ে মৃদু হাসেন।আয়নাতে কপালে লাল টিপটি দেখেও মনে পড়লো না তার ছোটনের নিষেধগুলো ।এক দিন লাল টিপ পড়াতে তাকে যা ইচ্ছে তা বলেছিল, ছোটনের রাশিতে লাল টিপ নাকি অলক্ষী তার পছন্দের নয়।সে যদি তার কোন আত্ত্বার আত্ত্বীয় দেখতো লাল টিপ পড়তে তখন সে ভেবে নিতো লাল টিপ পড়ুয়া মানুষটি তার জীবন থেকে এক দিন না এক দিন চির তরে হারিয়ে যাবেন।ছোটন এমন তথ্য পেয়েছিলেন এক অদৃশ্য পাগলা বাবার কাছ থেকে সেই থেকে তার জীবনে ঘটেছিল তার বাস্তবতা।সেই দিন থেকে ফুলী আর কখনোই লাল টিপ দেয়নি তার কপালে।এমনটি জানার পরও আজ সে ভূলে যায়,কিসের মোহে যেনো কপালে পড়েন টকটকে অস্থমিত সূর্য্যের ন্যায় লাল টিপটিই।

খালাকে সাথে করে ফুলী বেরিয়ে পড়েন ভাইয়ের বাসার উদ্দ্যেশে।পৌছে ফুলী লক্ষ করলেন ভাই যেনো তার অপেক্ষায় ছিলেন সে যাবার সাথে সাথে প্রাইভেট কারটি স্টার্ড দিলেন।ভাই সামনের সিটে এবং ফুলী ও খালা পিছনের সিটে বসেন তাদের সাথে আরো এক জন অপরিচিত স্মার্ট মেয়ে ছিল।গাড়ীতে কারো সাথে তেমন কোন কথা হলো না ফুলী সে সময়টা ছোটনের সাথে ভবিষৎ কল্পনার সুতো বুণতে থাকেন।টেক্সি যথা সময়ে যথা স্থানে গিয়ে পৌছল।অপরিচিত মেয়েটির সাথে ভাই তাদের যেতে বললেন ফুলী প্রথমে একটু অনিহা প্রকাশ করলেও ভাইয়ের আশ্বাসে তারা মেয়েটির সাথে লিফটে উঠেন।

সোনেলায় ১৩তম পর্ব পড়ুন

চলবে

গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান ,
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ
ধর্মজাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের
জ্ঞাতি ।
‘পুজারী, দুয়ার খোল,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পুজার সময়
হলো !’
স্বপ্ন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়
দেবতার বরে আজ রাজা-
টাজা হয়ে যাবে নিশ্চয় !
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোল বাবা,
খাইনা তো সাত দিন !’
সহসা বন্ধ হল মন্দির , ভুখারী ফিরিয়া চলে
তিমির রাত্রি পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক
জ্বলে !
ভুখারী ফুকারি’ কয়,
‘ঐ মন্দির পুজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয় !’
মসজিদে কাল শিরনী আছিল, অঢেল গোস্ত রুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই
কুটিকুটি !
এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে-আজারির চিন্
বলে, ‘বাবা, আমি ভুখা ফাকা আছি আজ
নিয়ে সাত দিন !’
তেরিয়াঁ হইয়া হাঁকিল
মোল্লা–”ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,
ভুখা আছ মর গে-ভাগাড়ে গিয়ে ! নামাজ পড়িস
বেটা ?”
ভুখারী কহিল, ‘না বাবা !’ মোল্লা হাঁকিল-
‘তা হলে শালা
সোজা পথ দেখ !’ গোস্ত-
রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা !
(অসমাপ্ত)

jojjউপরের কবিতাটি আমাদের জাতীয় কবি বিদ্রোহী কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতার কিছু অংশ বিশেষ।কবি তার কবিতায় সুন্দর ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন ধনী গরিবের ব্যাবধানকে।পৃথিবী সব সৃষ্টির মূলে আছেন স্রষ্টার হাত তবে কেনো মানুষে মানুষে এতো পার্থক্য! তা প্রত্যক সমাজে কিছু নামধারী অমানুষ আছেন যাদের উচ্চাভিলাসা চরিতার্থ করতে গিয়ে অন্যকে ঠকিয়ে সস্পদকে করেন কুক্ষিগত যা সমাজে সাম্যহীনতা সৃষ্টি করেন।কেউ খায় কেউ পায় না,কারো বাস্থানের জমিন অঢেল কারো বা মাথা গোজাবার সামান্যতম জমিনও নেই।এমনি বৈসম্যে সাম্যতার নীতি নিয়ে এগিয়ে আসেন বলিভিয়ায় চে গেভারার পুজিবাদের শোষনের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী কন্ঠস্বর।
তার পুরো নাম এবং বিস্তারিত… -{@
-{@ নামঃ এর্নেস্তো গেভারা দে লা সের্না
-{@ জন্মঃ জুন ১৪, ১৯২৮ইংরেজী
-{@ স্থানঃ রোসারিও, আর্জেন্টিনা
-{@ মৃত্যু,(কারো মতে মার্ডার)
বলিভিয়ার সেনা বাহিনীর ভাষ্য মতে তারা গুয়েভারাকে ৭ অক্টোবর গ্রেফতার করেন এবং তার মৃত্যু হয় ৯ অক্টোবর ১৯৬৭ সাল বেলা ১.১০ টায়।মৃত্যুর এ সময়কাল এবং ধরণ নিয়ে মত ভেদ এবং রহস্য এখনো আছে।ধারণা করা হয় ১৯৬৭ সালের এই দিনটিতে লা হিগুয়েরা নামক স্থানে নিরস্ত্র অবস্থায় নয়টি গুলি করে হত্যা করা হয় বন্দী চে গেভারাকে পরে বলিভিয়ার সেনা বাহিনী ঘোষণা করে যে বন্দী অবস্থায় নয়টি গুলি চালিয়ে সেই আর্জেন্টাইন ‘সন্ত্রাসবাদী’কে মেরে ফেলতে পেরেছেন এক মদ্যপ সৈনিক। তবে আরেকটি মতা মত হচ্ছে এই দিন যুদ্ধে বন্দী হলেও তাকে এবং তার সহ যোদ্ধাদের হত্যা করা হয় কিছুদিন পর।মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরবর্তীতে এইসব দাবির সপক্ষে কিছু প্রমাণ পাওয়া যায়।এমনি ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ আছে তার মৃত্যুকে নিয়ে।
এ সম্পর্কে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা সে সময় লিখেছিলো,
‘একজন মানুষের সঙ্গে সঙ্গে একটি রূপকথাও চির তরে বিশ্রামে চলে গেল।
পরে ১৯৯৭ সালে ভ্যালে গ্রান্দের একটি গণ-কবরে চে ও তাঁর সহ যোদ্ধাদের দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয়।
-{@ সমাধিঃ
Che Guevara Mausoleum
সানতা ক্লারা,কিউবা ।
-{@ পেশাঃ
এক জন আর্জেন্টিনীয় মার্কস বাদী, বিপ্লবী, চিকিৎসক, লেখক, বুদ্ধি জীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ, সামরিক তত্ত্ববিদ এবং কিউবার বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব।
-{@ প্রতিষ্ঠানঃ
ছাব্বিশে জুলাই আন্দোলন, ইউনাইটেড
পার্টি অফ দ্য কিউবান সোশ্যালিস্ট
রেভোলিউশনও ন্যাশানাল লিবারেশন
আর্মি (বলিভিয়া)
-{@ ধর্মঃ
নাস্তিক (Marxist humanist)
220px-Hilda_Gadea_y_Che_Guevara_-_Luna_de_miel_-_Yucatán_1955-{@ দম্পতিঃ
Hilda Gadea (1955–1959)
Aleida,March (1959–1967, his
death)
-{@ সন্তানঃ
হিলডা (জন্ম হতে মৃত্যু1956–1995),
Aleida (জন্মঃ1960),
Camilo (জন্মঃ1962),
Celia (জন্মঃ1963),
Ernesto (জন্মঃ1965)
২২ বছরের চেখুব ছোট বেলা থেকেই সমাজের বঞ্চিত, অসহায়, দরিদ্রদের প্রতি এক ধরনের মমত্ববোধ তাঁর ভিতর তৈরি হতে থাকে। একটি সমাজ তান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার পরিবারে বেড়ে ওঠার করনে খুব অল্প বয়সেই তিনি রাজনীতি সম্পর্কে বেশ জ্ঞান লাভ করেন। তার বাবা ছিলেন স্পেনের গৃহ যুদ্ধে রিপাবলিকানদের একজন গোড়া সমর্থক, সেই সংঘর্ষের সৈনিকদের তিনি প্রায়ই বাড়িতে থাকতে দিতেন।

Che_Guevara_June_2,_1959তার সবচেয়ে বড় গুণ বলেন আর আর্কষন বলেন কবিতার প্রতি ছিলো তার প্রচন্ড আবেগ। বিশেষ করে পাবলো নেরুদা, জন কিটস, এন্টনিও মারকাদো, ফেদেরিকো গারসিয়া লোরকা, গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল এবং ওয়াল্ট হুইট ম্যান, তিনি ভালো কবিতা আবৃত্তি করতে পারতেন। সে স্মৃতি থেকে আবৃতি করতে পারতেন, রুডিয়ার্ড কিপলিং এর “if-” এবং জোসে হার্নান্দেজ এর “Martin Fierro”। গুয়েভারা পরিবারে ছিল ৩০০০ বেশি বই যা গুয়েভারাকে করে তোলে একজন জ্ঞান পিপাসু ও আক্লান্ত পাঠক। যার মধ্যে কার্ল মার্ক্স, উইলিয়াম ফকনার, এমিলিও সল গারির বই। তাছাড়াও জওহরলাল নেহেরু, আলবেয়র কামু, লেলিন, রবার্ট ফ্রস্ট এর বইও তিনি পড়তেন।তার হাপানি নামক এক শ্বাস কষ্ট রোগ থাকার পরও সে তার কর্মে ছিলেন অনবদ্য।সে সপ্তাহে এক দিন তার পরিধেয় জামা কাপড় পাল্টাতেন তার মুবয়ের গেটাপই বলে দিতো সে এক জন বিপ্লোবি মনের অধিকারী।
চে গেভারা ১৯৪৮ সালে বুয়েনস এয়ারস বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিষয়ে লেখা পড়ার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন যা ১৯৫১ সালে লেখা পড়ায় এক বছর বিরতি দিয়ে আল বার্টো গ্রানাডো নমক এক বন্ধুকে সাথে করে মোটর সাইকেলে দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমনে বেরিয়ে পড়েন যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পেরুর সান পেবলোর লেপার কলোনিতে (কুষ্ট রোগী দের জন্য বিশেষ কলোনি) স্বেচ্ছা সেবক হিসেবে কয়েক সপ্তাহ কাজ করা,মাচু পিচ্চুর যাওয়ার পথে তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র কৃষকদের চরম দারিদ্র দেখে মর্মাহত হন।এ কৃষকরা ধনি মহা জনদের অধিনে থেকে ছোট ছোট জমিতে কাজ করতেন যা তাঁর ভ্রমণের পরবর্তি সময়ে তিনি লেপার কলোনিতে বস বাস কারী মানুষের মাঝে ভাতৃত্ব ও সহ চার্য দেখে অভিভূত হন।এই অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর ডায়েরীতে(The Motorcycle Diaries,)সে লিখেছিলেন, ‘মানব সত্ত্বার ঐক্য ও সংহতির সর্বোচ্চ রুপটি এসকল একাকী ও বেপরোয়া মানুষদের মাঝে জেগে উঠেছে’ তার এই দিন লিপি নিউয়র্ক টাইমস এর বেস্ট সেলার তা পরে একই নামে (The Motorcycle Diaries,)চলচ্চিত্রও বের হয় যা সেই সময় পুরস্কৃত হয়েছিল।
১৯৫৩ সালের ৭ই জুলাই মাসে চে আবারও বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হনডুরাস এবং সাল ভাডরের উদ্দ্যেশে বের 220px-Beauvoir_Sartre_-_Che_Guevara_-1960_-_Cubaহন।গুয়েতে মালা ছাড়ার পূর্বে ১৯৫৩ সালের ১০ডিসেম্বর কোষ্টারিকা থেকে তার আন্টিকে সব কিছুর বৃত্তান্ত দিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানির বিভিন্ন প্রদেশে ভ্রমণের কথা লিখেছিলেন। তিনি এভাবে তার সংরক্ষনশীল আত্মীয়দের আতঙ্কিত করতে চেয়েছিলেন।
১৯৫৪ সালের গোড়ার দিকে চে মেক্সিকো শহরে পৌছান এবং সদর হাসপাতালে এলার্জি বিভাগে চাকুরি করেন।পাশাপাশি ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভির্সিটি অব মেক্সিকোতে মেডিসিন বিষয়ে প্রভাষক এবং লাতিনা সংবাদ সংস্থার চিত্র গ্রাহক হিসেবে কাজ করেন।১৯৫৫ সালের জুন মাসে তার বন্ধু নিকো লোপেজ রাউল কাস্ত্রোর সাথে তার পরিচয় করান এবং পরে তার বড় ভাই ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে পরিচিত হন।কাস্ত্রোর সাথে তার প্রথম সাক্ষাতে দীর্ঘ আলাপ চারিতা হয় এবং চে বলেন যে কিউবার সমস্যা নিয়ে তিনি চিন্তিত।২৬শে জুলাই আন্দোলন দলের সদস্য হন।সেই সময় তিনি যুক্ত রাষ্ট্রের সাম্রাজ্য বাদের ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং সে বিশ্বাস করতেন এই ঘৃণ্য আগ্রাসি তৎপরতার আশু সমাপ্তি প্রয়োজন।
বিপ্লবের পরি কল্পনায় কাস্ত্রের প্রথম পদ ক্ষেপ ছিল মেক্সিকো হতে কিউবায় আক্রমণ করেন। ১৯৫৬ সালের ২৫শে নভেম্বর তারা কিউবার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।পৌছানোর সাথে সাথেই বাতিস্তার সেনা বাহীনি দ্বারা তারা আক্রান্ত হন।সেখানে তার ৮২ জন সহ যোগি কারা বন্দী হয় অনেকে ধারনা করেন মারা যায় কেবল মাত্র মাত্র ২২জন এ যাত্রায় বেঁচে যায়।গেভারা লিখেছিলেন সেটা ছিল সেই রক্ত ক্ষয়ী মুখো মুখি সংঘর্ষের সময় যখন তিনি তার চিকিৎসা সামগ্রীর সাথে একজন কম রেডের ফেলে যাওয়া এক বাক্স গোলা বারুদ নিয়েছিলেন, যা তাকে অবশেষে চিকিৎসক থেকে বিপ্লবীতে পরিনত করেন।
পরবর্তীতে সিয়েরা মস্ত্রা পর্বত মালায় বিদ্রোহীদের ছোট্ট একটা অংশ পুনরায় সংঘবদ্ধ হতে পেরেছিলেন। সেখানে তারা ২৬ শে জুলাই আন্দোলনের গেরিলা এবং স্থানীয় লোক জনদের সহ যোগিতা লাভ করেতে পেরেছিলেন। সিয়েরা থেকে দল উঠিয়ে দেবার সময় কাস্ত্রোর একটি সাক্ষাতকার নিউয়র্ক টাইমসে প্রকাশ করা হয়।
200px-Manuel_Urrutia2যার আগে ১৯৫৭ পর্যন্ত সারা পৃথিবীর মানুষ জানত না তিনি বেঁচে আছেন কি না! সেই নিবন্ধে কাস্ত্রো ও বিপ্লবীদের কাল্পনিক ছবি ছিল।গেভারা সেই সাক্ষাতকারে উপস্থিত ছিলেন না কিন্তু কিছু দিন পর তিনি তাদের এই বিপ্লবে প্রচার মাধ্যমের গুরুত্ব বুঝতে পারেন। আত্মবিশ্বাসের সাথে সাথে রসদ সরবরাহ কমে এসেছিল পাশাপাশি ছিল প্রচণ্ড মশার উত্পাত তাই গেভারা সেই সময়টাকে যুদ্ধের সবচেয়ে ব্যাথার সময় বলে অবহিত করেছিলেন।re56rd
যুদ্ধ চলাকালীন চে বিদ্রোহী সেনা বাহিনীর অখন্ড অংশ হয়ে গিয়েছিলেন।সে ফিদেল কাস্ত্রোকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, কূটনীতি এবং অধ্যবসায়ের কথা জানিয়ে ছিলেন।চে গ্রেনেড তৈরির কারখানা, রুটি তৈরীর জন্য চুল্লি প্রস্তুত এবং নিরক্ষর সঙ্গীদের লেখাপড়ার জন্য পাঠশালা তৈরি করেন।এ ছাড়াও সে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, সামরিক প্রশিক্ষনের কর্মশালা আয়োজন এবং তথ্য সর বরাহের জন্য পত্রিকা প্রচার করতেন। বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তিন বছর পর তাকে ’’কাস্ত্রোর মস্তিষ্ক’’’ বলে আখ্যায়িত করেছিল। তার পর তিনি বিদ্রোহী বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি পান। গেভারা শৃঙ্খলার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন, কর্তব্যে অবহেলাকারীদের তিনি নির্দ্বিধায় গুলি করে মারতে দ্বিদাবোধ করেননি।এই প্রচন্ড মানসিকতা তাকে তার ইউনিটে সবার চেয়ে ভয়ংকর ভাবে উপস্থাপন করেছিল।তাই গেরিলা অভিযানের সময় গুপ্ত ঘাতকদের মৃত্যু দন্ড দেবার দায়িত্ব ছিল তার উপর। চে এমন কঠিন প্রশাসক হওয়া সত্ত্বেও সৈন্যদের শিক্ষক হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কাজের ফাঁকে তাদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থাও করতেন।

সে ১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত চে কিউবার শিল্প বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন।সেই সময় সে কিউবার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।এসময় কিউবান নোট গুলোতে তার স্বাক্ষরে শুধু “চে” লেখা থাকতো। ১৯৬৫ সালে আল জিয়ার্স সফর কালে সোভিয়েত সরকারকে সাম্রাজ্য বাদের দোসর আখ্যা দেয়ার ফলে দেশে ফেরার সাথে সাথে তার মন্ত্রীত্বও বাতিল হয়।তার পর থেকে সে বিপ্লবের পথে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন এবং নিয়ম তান্ত্রিক রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

ububমোটা মোটি এই ছিলো তার সংগ্রামী জীবনের ঘাত প্রতি ঘাত তবে সে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় কিংবা সর্বো স্তরের মানুষের মনোযোগ আর্কষন করেন ১৮৮৬ সালের ১ মে শ্রম ঘণ্টা (আট ঘণ্টা) নির্ধারণের দাবিতে যুক্ত রাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ‘হে মার্কেটে’ নির্যাতিত শ্রমিকদের শান্তি পূর্ণ কর্ম সূচিতে মালিক এবং সরকার পক্ষের বর্বরোচিত আক্রমণ, গুলিবর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যদিয়ে ‘মহান মে দিবস’-এর সূচনা হয়।
সে দিনের সেই কর্মসূচিতে প্রায় ৩ লাখ শ্রমিক তথা মেহনতী মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন।দাবি আদায়ের জন্য সেদিন শ্রমিকদের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয় শিকাগোর রাজ পথে পথে। শ্রমিকদের এই আত্মত্যাগ ও রক্ত স্নাত ঘটনার মধ্যদিয়ে দৈনিক কাজের সময় ৮ ঘণ্টা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ঐতিহাসিক বিজয় হয়।
সে দিনের সেই ঘটনার মাত্র ৩ বছরের মাথায় ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগো ট্র্যাজেডিকে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। সেই থেকে আজঅবধি শ্রমিকের ন্যায় সঙ্গত অধিকার আদায়ের সংগ্রামী চেতনার অমিত তেজ সঞ্চারের দিন হিসেবে এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে আর তাতে লিডার ছিলে বিপ্লোবী চে।
মৃত্যু ঠিক পূর্বো মুহুর্তে সে বলেছিল…’তোমার সৈন্যদের বলো, লক্ষ্য স্খির করে গুলি ছুড়তে। বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।’
Vesper007_1318145755_3-che-bolivia-3অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ দিবসটি যথা যোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয়। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শোভা যাত্রা, আলোচনা সভা, মিছিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়ে থাকে।
-{@ চে গুয়েভার মৃত্যুর ভিডিও
-{@ চে এর সংগ্রামী জীবনের কিছু অংশ বিশেষ ভিডি
-{@ গুয়েভারার সম্পূর্ণ ডকুমেন্টরী ভিডিও

-{@ সবাইকে বিপ্লোবী মে দিবসের শুভেচ্ছা এবং শ্রমিকের শ্রমের ঘাম মুছে যাবার আগেই তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেবার আহবান।
…………………………………………………………………………………………………………….
কৃতজ্ঞতায়
বিভিন্ন ব্লগ এবং উইকিপিয়া

 স্যার ড.হুমায়ুন আজাদ
ttdfr
২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে বাংলা একাডেমীর উল্টো পাশের ফুটপাতে হামলার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ।২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সাল। বাংলা একাডেমিতে বইমেলা চলছে। সন্ধ্যার পর বইমেলা থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজের বাসায় যাবার পথে ঘাতকদের আক্রমণের শিকার হন তিনি। তাঁর পবিত্র রক্তে পিচ্ছিল হয়ে ওঠে টিএসসি চত্ত্বর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাধ্য হয়ে সরকার সেসময় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠায়। তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু মৃত্যু তাঁর পিছু ছাড়েনি। হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনার কিছুদিন পরেই জার্মান সরকার বিশ্বখ্যাত কবি হাইনরিশ হাইনের ওপর কাজ করার জন্য জার্মান সরকার বৃত্তি প্রদান করেন। তিনি জার্মানির মিউনিখে চলে যান। সেখানেই ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট আকষ্মিক ভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হুমায়ুন আজাদ । ২৭ আগষ্ট তাঁর মৃতদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ওই দিনই জন্মস্থান বিক্রম পুরের রাঢ়ি খাল গ্রামের পারিবারিক বসতবাটি প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।
বহু মাত্রিক জ্যোর্তিময় কবি, ঔপন্যাসিক, সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী, প্রাবন্ধিক, রাজনীতিক বিশ্লেষক ও কিশোর সাহিত্যিক অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ চেয়েছিলেন সমাজের কু-কর্ম মানুষগুলোকে বুদ্ধির বন্দিত্ব থেকে মুক্তির দিক নির্দশনা দিতে।আর এ কারণেই চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।তার ওপর হামলার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা। কয়েক সপ্তাহ আন্দোলনের এক পর্যায়ে হামলা কারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারক লিপি দিতে গেলে আন্দোলন কারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ, যাতে আহত হয়েছিলেন বেশ কয়েক শিক্ষার্থী।হুমায়ুন আজাদের ওপর চরমপন্থী ইসলামী জঙ্গিরা এই হামলা চালিয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে।
ড.হুমায়ুন আজাদের বই সমুহ এখানে পাবেন
ব্লগার রাজীব হত্যা
jgjhvbযে দিন তাকে হত্যা করবে সে দিন ১৫ই ফেব্রুয়ারী ২০১৩ সাল হত্যাকারীরা রাজীবের বাসার সামনে ক্রিকেট খেলেন। সন্ধ্যার পর রাজীব শাহবাগ থেকে বান্ধবী তানজিলাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে বাইশটেকি হয়ে নিজের বাসার দিকে যাওয়ার পথে ওই পাঁচ শিক্ষার্থী রাজীবকে ঘাড়ে চাপাতি দিয়ে কোপ দেন তারা হলেন এহসান রেজা রুম্মান, মাকসুদুল হাসান অনিক, নাঈম সিকদার ইরাদ সহ আরো দুজন।তাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।নাঈম রাজিবকে এলো পাতাড়ি ভাবে চাপাতি দিয়ে কোপানোর সময় অনিকের জুতায় কোপ লাগে এবং পায়ের একটি আঙ্গুল সামান্য কেটে যায়। এ জুতা তিনি চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধি দফতরের পুকুরে ফেলে দিয়ে যান। এরপর তারা তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় চাপাতি একটি পান দোকানের সামনে ফেলে যায়। আলামত হিসেবে এগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
সে ছিলেন প্রকৌশলী ও ব্লগার অ্যাক্টিভিস্ট আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী এবং শাহবাগে চলমান গণজাগরণের নেতা ইমরান এইচ সরকারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। নিহত রাজীব ‘থাবা বাবা’ নাম আমার ব্লগ ও নাগরিক ব্লগে লিখতেন।

ব্লগার অভিজিৎ হত্যা(ভিডিও)
vb  vc২৬শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫ বৃহস্পতিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা অভিজিৎ​ রায় ও তাঁর স্ত্রী নাফিজা আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে।আহত অবস্থায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিজিৎ​।অভিজিৎ​ ও তাঁর স্ত্রী দুজনই আমেরিকা প্রবাসী। তিনি মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক।তাঁর লেখা নয়টির বেশি বই রয়েছে। অভিজিৎ​ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায়ের ছেলে।ধারালো অস্ত্রধারী দু-তিনজন সন্ত্রাসী অভিজিৎ​ ও তাঁর স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করে।এ ঘটনার পরিপেক্ষিতে ফারাবী গ্রেফতার করেন পুলিশ।অথচ পুলিশের সামনেই ঘটেছিল এই হত্যাকান্ডটি।
তার সহধর্মীনি চিৎকার করে ডাকছিলেন কেউ এসে তাদের প্রান বাচাতে অথচ অবাক দৃষ্টি চেয়ে ছিলেন সবাই মনে হচ্ছিল তারা কোন সিনেমার সুটিং দেখছেন।এক ফটো সাংবাদিক ভাই এগিয়ে এসে তাদের সহযোগিতা করেন।বাকীরা চুড়ি হাতে পড়ে বৌয়ের আচলে মুখ লোকায়।

দুই হিজড়া প্রমান করল তারা কাপুরুষ নয় ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানকে যখন সন্ত্রাসীরা জখম করে পালাচ্ছিল তখনই তাদের ধরে ফেলেন।গত সোমবার 150330150257_bd_washikur_blogger_640x360_bbc_nocreditসকাল সাড়ে ৯টার সময় ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান ওরফে বাবু তার দক্ষিণ বেগুন বাড়ির বাসা থেকে কর্মস্থল মতিঝিল ফারইস্ট ট্রাভেল এজেন্সি অফিসে যাওয়ার জন্য বের হলে তিনজন তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে আহত করে।আটক কৃতদের একজন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র জিকর”ল্লাহ ও অপর জন রাজধানীর মিরপুরের দার”ল উলুম মাদ্রাসার ছাত্র আরিফুল ইসলাম অবশ্য পরে এর কোন সত্যতা মিলেনি।এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্ত মাখা চাপাতি উদ্ধার করেন।
(y) এ সকল ঘটনাগুলো দেশে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সরকার বেশ বেকায়দায় পড়তে হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং বিচারে কাজ সমাপ্তি না করায়।পুলিশের ধারনা হত্যাগুলো একই কায়দায় হয় যাতে প্রতিয়মান হয় যে ঘটনাগুলো কিছু উগ্রবাদী মুসলিম ঘটিয়েছে।সব ঠিক আছে তবে আমার মতে পর পর এতোগুলো ঘটনা ঘটল কিংবা ভবিষৎএ আরো ঘটতে পারে, তবে কে দিবে আমাদের নিরাপত্তা? লক্ষ্য করলে দেখা যায় প্রায় সবগুলো ঘটনাই এই ঢাকা শহরে,কেনো কারা করছেন তা কি জানার অধিকার আমাদের নেই।যারা যে কারনেই করে থাকুক সেই কারনগুলোকে হাইলাইট করে তার প্রতিকার করার দায়ীত্ত্ব কার?।
(y) যারা বা যে গোষ্টিই এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটান তাদের ভাষ্য মতে তারা আল্লাহর আদেশে কিংবা ছোয়াবের জন্য করছেন।লেখা হিট বা জনপ্রিয় করা র জন্য কিংবা নিজেকে বেশী পন্ডিত ভেবে যারা যে কোন ধর্মের সমালোচনা করেন তাদের ভাবা উচিত মুক্ত মত কিংবা বাক স্বাধীনতা বলতে যা তা বলা বা লিখা কিংবা লিখতে আপত্তি আছে কিংবা জাতিগত স্পর্শকাতর বিষয়েও লেখা যাবে তাদের ধারনা কিংবা চিন্তা ভাবনা আমার মতে সম্পূর্ন ভূল।এ সব বিষয়ে আপনি লিখতে পারেন তবে তা হতে হবে ঐসব ধর্মীয় কিতাবে হুবহু তরজমা কোন ধর্মকে ছোট করে তার বাণীগুলোকে বিকৃতি করা মোটেও উচিত নয়।যেমনটি করেছেন অভিজিৎ দা।যদিও আর সবার লেখা আমার পড়া হয়নি তার লেখা পড়ে আমি নিজেই থ’ খেয়ে গেছি কেননা আমি মুসলমান আমার ধর্মকে এমন বিকৃত রূপে প্রকাশ করা তার উচিত হয়নি বলে যে তাকে হত্যা করতে হবে তা আমি কেনো, আমার ধর্মের কোথাও নেই যে তাকে হত্যাই করতে হবে।আর তাতে ছোয়াব পাওয়া যাবে এ রকম ধারনা করা আমার মতে ভূল কেননা ইসলামই এক মাত্র সহি ধর্ম যেখানে সকল ধর্মের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে বলা হয়েছে। -{@

(y) নীচে আমি কিছু কোরান ও হাদিস এ সম্পর্কে রেফারেন্স দিলাম: -{@
-{@ ‘একজন মানুষের জীবন বাঁচানো যেমন গোটা মানব জাতির জীবন বাঁচানোর সমতুল্য, ঠিক তেমনি কোন মানুষের জীবন সংহার করা গোটামানব জাতিকে ধ্বংস করার সমতুল্য।’ [আল-কুরআন- ৫:৩২]
-{@ “যে কোন লোক কোন মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার প্রতিফল হচ্ছে জাহান্নাম। সে চিরকালই সেখানে থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রদ্ধ হন এবং তার প্রতি অভিশাপ করেন। উপরন্তু তিনি তার জন্য কঠিন আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন।” [আল কুরআন- ৪:৯৩]
-{@ ইসলাম ধর্মে হত্যার প্রতি প্ররোচনা দানকারী হিসেবে হিংসা-বিদ্বেষ-ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করতে বলেছে। এ বিষয়ে হযরত রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, ‘তোমরা একে অপরের সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করো না, হিংসা করো না এবং একে অপরের পেছনে লেগে থেকনা। আল্লাহর বান্দা সবাই ভাই ভাই হয়ে যাও। [সহিহ বোখারি]
-{@ এমনকি হত্যার প্রাথমিক বিষয় তথা অস্ত্র দিয়েও কাউকে ভয় দেখাতে নিষেধ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের দিকে অস্ত্র তাক না করে। কারণ সে জানে না, হয়ত শয়তান তার হাত থেকে তা বের করে দিতে পারে, ফলে সে জাহান্নামের গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হবে।’ [সহিহ বোখারি]
-{@ আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন”। [সূরা আন নিসা: আয়াত নং ৯৩]
আল্লাহ তার পাক কালামে বলেছেন: ‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আল্লাহ নির্দেশ করেছেন তা ছিন্ন করে আর পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায় তাদেরই জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য নিকৃষ্ট বাসস্থান।’’ (সুরা রা’দ, ২৫)
-{@ আরও নির্দিষ্ট করে পুনরুচ্চারণ করেছেন এই ভণ্ডদের জন্য নির্ধারিত শাস্তির: ‘‘আল্লাহ মুনাফেক নর-নারী ও অবিশ্বাসীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাহান্নামের আগুনের যেখানে ওরা থাকবে চিরকাল, এই ওদের জন্য হিসেব। ওদের ওপর রয়েছে আল্লাহর অভিশাপ, ওদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি।’’ (সুরা তওবা ৬৮)
আজ সেই ধর্ম রক্ষার নামেই তারা রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে অল্প বয়সী কিশোর, তরুণদের। আজ যে তরুণ যে কিশোর যে যুবক রাস্তায় নেমে হত্যার উৎসবে মেতেছে, সে জানে সে জিহাদ করছে। মহান আল্লাহর রাস্তায় দ্বিনের কায়েমে সে নিজেকে উৎসর্গ করেছে কিন্তু সে জানে না বাস্তবে সে তার আত্মা বন্ধক রেখেছে শয়তানের কাছে, আর মানুষের কাছে সে জালিম হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। তার ইহ কালের সঙ্গে পরকালও সমস্যা গ্রস্ত ও আল্লাহর লানতের শিকার।
(y) আমাদের ইসলাম ধর্ম কতটা শান্তি প্রিয় তা নীচের এই বুখারী হাদিসটি পড়ে একটু চিন্তা করলেই আমাকে আর কেউ আপনাকে জ্ঞান দিতে হবে না।
-{@ হযরত আনাস (রা:) বর্ণিত: ‘‘রাসুলুল্লাহ (সা:)-এর জবান অশ্লীল কথা, অভিশাপ দেওয়া ও গালাগালি করা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র ছিল।রাগ ও অসন্তুষ্টির সময়ও তিনি বলতেন, ‘তার যে কী হয়ে গেল’ বা ‘তার কপালের ধুলি মলিন হোক’।’’ (বুখারী)।
আর একটি কথা না বললেই নয় আয়ামে জাহালিয়া যুগে যখন জীবনের সর্বত্রই দাঙ্গা ফাসাদ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ লেগেই থাকত তখনই বিদায় হজ্জের শেষে আমাদের প্রিয় নবী পৃথিবীর প্রথম এবং শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ সঃ তা সম্পূর্ণ হারাম বা নিষেধ করে দিয়েছেন।এবার আপনিই বলেন ইসলাম কি হত্যা করা জায়েজ করেছে?করেনি, আপনার বিবেককে প্রশ্ন করুন, যে যত বড় অন্যায়ই করুক তাকে পৃথিবী থেকে বিনা বিচারে চির বিদায় করে দেওয়া কতটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল আপনার কেননা পৃথিবীতে মানুষ কেবল একবারই জন্মায়।

ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞ সবার কাছে কষ্ট করে পড়ার জন্য আর যদি কারো দ্বিমত থাকে থাকতে পারে কিন্তু কারো মনে আমার যদি কোন কথায় আঘাত লেগে থাকে তবে নিজগুণে ক্ষমা করবেন।

সূত্র:বিভিন্ন ব্লগ,পত্রিকা এবং অনলাইন

বাংলাদেশ স্বাধীনের আজ তেতাল্লিশ চৌয়াল্লিশটি বছর পাড়ি দিয়েও খুজছিঁ স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস।স্বাধীনতার বিপক্ষের শত্রু স্বদেশীয় কিছু মীরজাফরদের সহযোগিতায় যুগের পর যুগ ইতিহাসকে মন গড়া ভাবে বিকৃত করে চলছেন তবে ২৫শে মার্চ ১৯৭১ এ দিবাগত মধ্য রাতে পাকিদের নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের উপর বর্বরচিত হামলার ঘটনার বিবরণে তেমন কোন পার্থক্য দেখি না।সর্বত্রই ২৫ শে মার্চ সর্বোকালের লোমহর্ষকর ঘটনাকে অপারেসনস সার্চলাইট গণ হত্যাযজ্ঞ নামে সজ্ঞা দিয়েছেন।
মুক্তি যুদ্ধ চলা কালে আমেরিকার ‘সেন্ট লুইস পোস্ট’-এ যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ স্থানীয় সরকারী কর্ম কর্তার বরাত দিয়ে লেখা হয়েছিল,

(y) দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে পোলান্ডে নাৎসীদের গণহত্যার পর এই হত্যাকাণ্ড হচ্ছে সবচেয়ে নৃশংস। সরকারী হিসেব অনুযায়ী ”প্রথম চার মাসে ২ লক্ষ থেকে ৭ লক্ষ বাঙালি নিহত হয়েছে এবং ৬৫ লক্ষ শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল।
এশিয়া টাইমসের ভাষ্য অনুযায়ী,
পাক সামরিক বাহিনীর বড় বড় অফিসারদের নিয়ে বৈঠকে ইয়াহিয়া খান ঘোষণা করে “তিরিশ লক্ষ বাঙ্গালিকে হত্যা কর, তখন দেখবে তারা আমাদের হাত চেটে খাবে।”

সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫শে মার্চের রাতে পাকিস্তানী আর্মি অপারেশন সার্চলাইট আরম্ভ করে যার উদ্দেশ্য ছিল বাঙ্গালি প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়া। এরই অংশ হিসাবে সামরিক বাহিনীর বাঙ্গালি সদস্যদের নিরস্ত্র করে হত্যা করা হয়, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী সমাজ নিধন করা হয় এবং সারা বাংলাদেশে নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের খবর যাতে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে না পৌঁছায় সে লক্ষ্যে ২৫ মার্চের আগেই বিদেশী সাংবাদিককে ঢাকা পরিত্যাগে বাধ্য করা হয়। তারপরও সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করে ওয়াশিংটন পোস্টের মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে এই গণহত্যার খবর জানিয়েছিলেন।
স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্বাবস্থা:
১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীন হয় এবং ভারত বিভক্ত হয়ে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান এবং হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয় ভারত। নবগঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রায় দুই হাজার মাইলের ব্যবধানে অবস্থিত দুটি প্রদেশের সমন্বয়ে গঠিত হয় – পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তান। ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে অবস্থিত এ দুটি অংশের মধ্যে মিল ছিল কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মে। পাকিস্তানের জন্ম লগ্ন থেকেই এর পূর্ব অংশ পশ্চিম অংশের তুলনায় নানা ভাবে বঞ্চিত হতে থাকে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ বছর ছিল পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস।
স্বাধীনতার সূত্রপাত:১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের বিজয়ের পর হতে মূলত স্বাধীকার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে যেখানে নেতৃত্ত্ব দেন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আওয়ামিলীগ দল।২৫ মার্চ সন্ধ্যায় শেখ মুজিবের ধানমণ্ডিস্থ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন যে,,,
(y) আগামী ২৭ মার্চ সমগ্র দেশব্যাপী সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের প্রতিবাদে হরতাল পালন করা হবে।
বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে যখন এই হরতালের ঘোষণা করা হচ্ছিল ঠিক তখনই সন্ধ্যা প্রায় সোয়া সাতটায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার বিমান প্রেসিডেন্টকে নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করে। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ট্যাঙ্ক এবং সৈন্যভর্তি ট্রাকগুলো ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরুর উদ্দেশ্যে। জিরো আওয়ার বা আঘাত হানার সময় ছিল রাত প্রায় ১টা।
অপারেশন সার্চ লাইট মনিটর করার জন্য ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসকের হেড কোয়ার্টার্স লনে জেনারেল আবদুল হামিদসহ সব উচ্চ পদস্থ অফিসার সোফা এবং আরাম কেদারা ফেলে প্রস্তুত হন সারা রাত জেগে কাটানোর উদ্দেশ্যে।কিন্তু হানাদার বাহিনী ফার্মগেটের সামনে এলেই পিকেটারদের দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হয় এবং পিকেটারদের হটানোর জন্য জিরো আওয়ারের অপেক্ষা না করেই গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শুরু হয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’। অপারেশন শুরুর দেড় ঘণ্টার মধ্যেই কর্নেল জেড এ খান এবং মেজর বিল্লাল স্বাধীনতার স্থপতি,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার বাসা থেকে তুলে ক্যান্টনমেন্ট নিয়ে আসে এবং ৩ দিন পর তাকে করাচি নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতারের আগ মূহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। গোপন ওয়ারলেস বার্তায় তিনি বলেন,,,,,,,,,,,,,,,,পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। ছাত্র-জনতা-পুলিশ-ইপিআর শত্রুর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম শুরু হয়েছে। আমি ঘোষণা করছি আজ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সর্বস্তরের নাগরিকদের আমি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা যে যেখানে যে অবস্থাতেই থাকুন, যার যা আছে তাই নিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। সম্মিলিতভাবে শত্রুর মোকাবিলা করুন। এই হয়তো আপনাদের প্রতি আমার শেষ বাণী হতে পারে। আপনারা শেষ শত্রুটি দেশ থেকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যান।বামে তার লিখিত কপি।

মুক্তি যুদ্ধের সূচনায় প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে রাজার বাগ পুলিশ বাহিনী ২৫ শে মার্চের কালো রাতে রাজার বাগ পুলিশ লাইনে এই বাহিনীর সদস্যরা .৩০৩ রাইফেল দিয়ে পাকিস্থানী হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম রুখে দাড়ায় এবং লড়াই করে প্রান দান করেন।হানাদারদের ভারী অস্ত্রের গোলায় ঝাঝরা হয়ে গিয়েছিল সব কটি পুলিশ ব্যারাক, অসংখ্য পুলিশ সদস্য মৃত্যুবরণ করেন, তবুও কেউ মাথা নত করেনি, এই রাজারবাগ থেকেই শুরু হয় প্রথম প্রতিরোধ

রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ২৫শে মার্চ ,১৯৭১সাল:
দুপুর ২টায় (y) বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে রাজার বাগ পুলিশ লাইনে নানা রকম সংবাদ আসতে থাকে ।পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে সারা শহরে পেট্রল পার্টি পাঠানো হয় ।পেট্রল পার্টি বেতার মারফত সংবাদ পাঠাতে থাকে শহরের অবস্থা থম থমে ও আতংক গ্রস্থ ।
বিকাল ৪টায় (y) মিরপুর ,তেজগাও শ্রমিক অধ্যষিত অঞ্চল থেকে সংবাদ আসতে থাকে অবাঙ্গালী শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে আক্রমনাত্বক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সন্ধ্যা ৭টায় (y) বিভিন্ন সুত্র থেকে খবর আসে যে রাজার বাগ পুলিশ লাইন আক্রমন হতে পারে, এ সংবাদে বাঙ্গালী পুলিশ বাহিনীরা বিক্ষিপ্ত ভাবে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে এবং তাদের করণীয় কি সে সম্পর্কে আলোচনা করেন।
রাত ১০টায় (y) তেজগাও শিল্পাঞ্চলে টহল রত একটি পুলিশ পেট্রল পার্টি (চার্লি -৭)বেতার মারফত জানায় যে , সেনাবাহিনীর একটি বড় কনভয় যুদ্ধ সাজে শহরের দিকে এগুচ্ছে।
রাত ১০.৩০টায় (y) বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে পুলিশ পেট্রল পার্টি জানায় যে, রমনা পার্ক (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান)
উত্তর ও দক্ষিন দিকে সেনা বাহিনীর অন্তত ৭০/৮০ টি সাঁজ়োয়া যান পুর্ন প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছে।
রাত ১১টা (y) হোটেল ইন্টার কনটিনেন্টালের সামনে অবস্থান রত পেট্রল পার্টির সদস্য গন সেনা বাহিনীর সাজোয়া যানের বহর কে ঐ এলাকা অতিক্রম করতে দেখে ভিন্ন ভিন্ন পথে তারা রাজার বাগে ফিরে এসে এ সংবাদ দেয় এবং সেখানে অবস্থান রত পুলিশ সদস্যরা যে যার মত প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
রাত ১১.২০টায় (y) সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানসমুহ রাজার বাগ পুলিশ লাইনের চার দিকে অবস্থান নিতে থাকে।পাক বাহিনীর এই আক্রমনের সংবাদ তাৎক্ষনিকভাবে সারা দেশের জেলা ও সাব ডিভিশন সমুহে পুলিশ বেতার মারফত প্রেরন করা হয়।সংবাদটি ছিল “ base for all station of east Pakistan police, keep listening, watch, we are already attacked by the pak army. Try to save yourself, over “
রাত ১১.৩৫টায় (y) রাজার বাগ পুলিশ লাইনে অবস্থান রত পুলিশ সদস্যরা অস্ত্রাগারের ঘন্টা পিটিয়ে সবাইকে সতর্ক ও একত্রিত করে। অস্ত্রাগারে কর্তব্য রত সেন্ট্রির রাইফেল থেকে গুলি করে অস্ত্রাগারের তালা ভাঙ্গে এবং তৎকালীন আর আই মফিজ উদ্দিনের নিকট হতে জোর পুর্বক অস্ত্রাগারের চাবি নিয়ে নিজেদের মধ্যে অস্ত্র ও গোলা বারুদ বিতরন করে।প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ গ্রহন কারী পুলিশ সদস্য বৃন্দ পুলিশ লাইনের চার দিকে,ব্যারাকে ও বিভিন্ন দালানের ছাদে অবস্থান নেয়।
রাত ১১.৪০টায় (y) পাক সেনাদের কন ভয় রাজার বাগ পুলিশ লাইনের মেইন গেটে এসে পৌছে এবং বাঙ্গালী পুলিশ সদস্যেরা কৌশল গত স্থানে পজিশন নেয়।
রাত ১১.৪৫টায় (y) রাজারবাগ পুলিশ লাইনের দক্ষিন পুর্ব দিক (পুলিশ হাসপাতাল কোয়ার্টার সংলগ্ন) থেকে প্রথম গুলি বর্ষন হয়।প্রায় সাথে সাথেই প্যারেড গ্রাউন্ডের উত্তর পুর্ব দিক (শাহজাহান পুর ক্রসিং) থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়।ব্যারাকের ছাদে অবস্থান রত বাঙ্গালী পুলিশ সদস্যরা পাক সেনাদের লক্ষ করে গুলি বর্ষন শুরু করে।শুরু হয় দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।ইতিহাসে সূচনা হয় একটি নতুন অধ্যায়ের।
রাত ১২.০০টায় (y) বাঙ্গালী পুলিশ সদস্যদের মরন পণ প্রতিরোধে থমকে যায় ট্যাংক ও কামান সজ্জিত পাক বাহিনী।একটু পরই মর্টার ও হেভি মেশিন গান দিয়ে গুলি বর্ষন শুরু করে।পি আর এফ এর ৪টি ব্যারাকে আগুন ধরে যায়।পাক বাহিনী ট্যাংক বহর সহ প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করে।এ আক্রমনে পাক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় আটশ।
রাত ১২.৩০টায় (y) পাক বাহিনীর ভারী অস্ত্রের মুখে বাঙ্গালী পুলিশ সদস্যরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করে।গেরিলা পদ্ধতিতে পাক বাহিনীর উপর হামলা চালায় এবং অনেক কে হতাহত করে। অপর একটি গ্রুপ অস্ত্র ও গোলা বারুদ সহ মালি বাগ চামেলী বাগ প্রান্ত দিয়ে ঢাকা শহরে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।রাজার বাগ পুলিশ লাইনের সেদিনকার সেই অস্ত্র আর গোলা বারুদ ব্যবহ্যত হয়েছে সারা দেশে, সীমান্ত বর্তী মুক্তি যোদ্ধা প্রশিক্ষন শিবিরে এবং সন্মুখযুদ্ধে।
রাত ০২.৪৫টায় (y) রাত ১১.৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া যুদ্ধ থেমে থেমে চলতে থাকে রাত প্রায় ০৩.০০- ০৩.৩০ টা পর্যন্ত।বাঙ্গালী পুলিশের কিছু সদস্য বুকে অসীম সাহস নিয়ে সমান তালে লড়ে চলে ট্যাংক , কামান, আর মর্টারের বিরুদ্ধে।
রাত ০৩.৩০টায় (y) কামান আর মর্টারের আক্রমন এক সময় থামে , বন্দী হয় প্রায় দেড়শ বাঙ্গালী পুলিশ, রাজার বাগ পুলিশ লাইন দখল করে নেয় দখলদার বাহিনী,তার আগেই রাজার বাগ পুলিশ লাইনের কিছু বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ও গোলা বারুদসহ রাজার বাগ ত্যাগ করেন। রাজার বাগ পুলিশ লাইনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র পুর্ব পাকিস্থানে।
-{@ স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশের এমন বীরত্ত্ব পূর্ণ ইতিহাস হয়তো আজকের পুলিশ বাহিনী ভুলে গেছেন অথবা অনেকেই তা তেমন জানেন না কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী হয়ে আছে তাদের সাহসী আত্ত্বত্যাগের ঘটনাগুলো।সেই সময়ে পুলিশ বাহিনী প্রথম প্রতিরোধ সৃষ্টি করাতে পরবর্তীতে তা জন সম্পৃক্ততায় বিস্তার ঘটে। -{@
তখন পুরো বাংলাদেশেই হিন্দু এলাকা গুলো বিশেষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মধ্যরাতের আগেই, ঢাকা পুরোপুরি জ্বলছিল, বিশেষ ভাবে পূর্ব দিকের হিন্দু প্রধান এলাকাগুলো।১৯৭১ ২রা আগষ্ট টাইম সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, (y) “হিন্দু,যারা মোট রিফিউজিদের তিন-চতুর্থাংশ, পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর ক্রোধ ও আক্রোশ বহন করছিল”।
এ ছাড়াও ঐ রাতে বিভিন্ন এলাকাতে হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগ করে চলে বর্বর পাক হানাদার বাহিনী । পাকিস্তানি বর্বর সেনারা বাংলাদেশকে সশস্ত্র উপায়ে স্বাধীন করার উদ্যোক্তা (y) কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ইকবাল হল (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) এবং জগন্নাথ হলে হত্যা করা হয় কয়েকশ নিরীহ ছাত্রকে এবং বড় বড় গর্ত করে পুঁতে ফেলা হয় সব লাশ।ঐ কালো রাতেই হত্যা করা হয় ক্ষণজন্মা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক (y) অধ্যাপক ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, ড. জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরদা, ড. ফজলুর রহমান খান, অধ্যাপক এম মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক এম এ মুক্তাদির, অধ্যাপক এম আর খাদেম, ড. মোহাম্মদ সাদেক প্রমুখ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে। -{@

রোকেয়া হলের মেয়েদের ধরে নিয়ে যাওয়া হলো ক্যান্টনমেন্টে। সারা শহরে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করে পাষণ্ড বাহিনী। রিকশাওয়ালা, ভিখারি, শিশু, ফুটপাতবাসী কেউই তাদের ভয়াল থাবা থেকে রেহাই পায়নি। বস্তির পর বস্তি জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রাণভয়ে পলায়ন পর আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাকে ব্রাশফায়ারে করে পাখির মতো হত্যা করা হয়। ভস্মীভূত করা হলো (y) দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, সাপ্তাহিক গণবাংলা এবং দৈনিক পিপলের দফতর। মিরপুর, মোহাম্মদপুরের বিহারিরা নিজেদের বাঙালি প্রতিবেশীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো হিংস্র উল্লাসে। রাতারাতি ঢাকা পরিণত হল মৃত মানুষের শহরে। ২৬ মার্চের সূর্য উঠতেই দেখা গেল ঢাকা সারা শহর জুড়ে নিরীহ মানুষের লাশ এবং বাতাসে লাশের পুড়া গন্ধ,ভস্মীভূত ঘর বাড়ি।
অন্য ব্লগ থেকে কপি করা দু’একটি বাস্তব ঘটনা দিয়েই শেষ করব…. যা শুনলে যে কেউ শিহরে উঠবে (y)

১৯৭১ সালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সুইপার হিসেবে কর্মরত রাবেয়া খাতুনের বর্ণনায়-
” ১৯৭১ সনের ২৫শে মার্চ রাতে হানাদার পাঞ্জাবী সেনারা যখন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের উপর অতর্কিতে হামলা চালায় তখন আমি রাজারবাগ পুলিশ লাইনের এস, এফ ক্যান্টিনে ছিলাম। আসন্ন হামলার ভয়ে আমি সারাদিন পুলিশ লাইনের ব্যারাক ঝাড়ু দিয়ে রাতে ব্যারাকেই ছিলাম। কামান, গোলা, লাইটবোম আর ট্যাঙ্কের অবিরাম কানফাটা গর্জনে আমি ভয়ে ব্যারাকের মধ্যে কাত হয়ে পড়ে থেকে থরথরিয়ে কাঁপছিলাম।
২৬ শে মার্চ সকালে ওদের কামানের সম্মুখে আমাদের বীর বাঙ্গালী পুলিশ বাহিনী বীরের মত প্রতিরোধ করতে করতে আর টিকে থাকতে পারি নাই। সকালে ওরা পুলিশ লাইনের এস,এফ ব্যারাকের চারদিকে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং ব্যারাকের মধ্যে প্রবেশ করে বাঙ্গালী পুলিশদের নাকে , মুখে, সারা দেহে বেয়নেট ও বেটন চার্জ করতে করতে ও বুটের লাথি মারতে মারতে বের করে নিয়ে আসছিল। ক্যান্টিনের কামরা থেকে বন্দুকের নলের মুখে আমাকেও বের করে আনা হয়, আমাকে লাথি মেরে, মাটিতে ফেলে দেয়া হয় এবং ওরা আমার উপর প্রকাশ্যে পাশবিক অত্যাচার করছিল আর কুকুরের মত অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছিল। আমার উপর উপর্যুপরি পাশবিক অত্যাচার করতে করতে যখন আমাকে একেবারে মেরে ফেলে দেওয়ার উপক্রম হয় তখন বাঁচবার আর কোন উপায় না দেখে আমি আমার প্রান বাঁচাবার জন্য ওদের নিকট কাতর মিনতি জানাচ্ছিলাম। আমি হাউমাউ করে কাদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরোনা, আমি সুইপার, আমাকে মেরে ফেললে তোমাদের পায়খান ও নর্দমা পরিস্কার করার আর কেউ থাকবে না, তোমাদের পায়ে পড়ি তোমরা আমাকে মেরোনা, মেরো না, মেরো না, আমাকে মেরে ফেললে তোমাদের পুলিশ লাইন রক্ত ও লাশের পচা গন্ধে মানুষের বাস করার অযোগ্য হয়ে পড়বে। তখনও আমার উপর এক
পাঞ্জাবী কুকুর, কুকুরের মতোই আমার কোমরের উপর চড়াও হয়ে আমাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করছিল। আমাকে এভাবে ধর্ষণ করতে করতে মেরে ফেলে দিলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন পরিস্কার করার জন্য আর কেউ থাকবে না একথা ভেবে ওরা আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমাকে এক পাঞ্জাবী ধমক দিয়ে বলতে থাকে ,’ ঠিক হায় , তোমকো ছোড় দিয়া যায়েগা জারা বাদ, তোম বাহার নাহি নেকলেগা, হারওয়াকত লাইন পার হাজির রাহেগা।’ এ কথা বলে আমাকে ছেড়ে দেয়।
ঘুমন্ত শিশুঅনেক পশু ছোট ছোট বালিকাদের উপর পাশবিক অত্যাচার করে ওদের অসার রক্তাক্ত দেহ বাইরে এনে দুজন দু পা দুদিকে টেনে ধরে চড় চড়িয়ে ছিঁড়ে ফেলে দিল, আমি দেখলাম সেখানে বসে বসে, আর ড্রেন পরিস্কার করছিলাম, শ্মশানের লাশ যেমন করে কুকুরের খাদ্য হয়, ঠিক তেমন করে পাঞ্জাবীরা মদ খেয়ে সব সময় সেখান কার যার যে মেয়ে ইচ্ছা তাকেই ধর্ষণ করছিল। শুধু সাধারণ পাঞ্জাবী সেনারাই এই বীভৎস পাশবিক অত্যাচারে যোগ দেয় নাই, সকল উচ্চপদস্থ পাঞ্জাবী অফিসাররাই মদ খেয়ে হিংস্র বাঘের মত হয়ে দুই হাত বাঘের মত নাচাতে নাচাতে সেই উলঙ্গ বালিকা, যুবতী ও বাঙ্গালী মহিলাদের উপর সারাক্ষন পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ কাজে লিপ্ত থাকতো।

কোন মেয়ে, মহিলা, যুবতীকে এক মুহূর্তের জন্য অবসর দেওয়া হয় নাই, ওদের উপর্যুপরি ধর্ষণ ও অবিরাম অত্যাচারে বহু কচি বালিকা সেখানেই রক্তাক্ত দেহে কাতরাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে, পরের দিন এ সকল মেয়ের লাশ অন্যান্য মেয়েদের সম্মুখে ছুরি দিয়ে কেটে কুটি কুঁচি করে বস্তার মধ্যে ভরে বাইরে ফেলে দিত। এ সকল মহিলা , বালিকা ও যুবতীদের নির্মম পরিণতি দেখে অন্যান্য মেয়েরা আরও ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়তো এবং স্বেচ্ছায় পশুদের ইচ্ছার সম্মুখে আত্মসমর্পণ করতো। যে সকল মেয়ে প্রানে বাঁচার জন্য ওদের সাথে মিল দিয়ে ওদের অতৃপ্ত যৌনক্ষুধা চরিতার্থ করার জন্য ‘ সর্বতোভাবে সহ যোগীতা করে তাঁদের পিছনে ঘুরে বেড়িয়েছে তাঁদের হাসি তামাশায় দেহ দান করেছে তাদেরকেও ছাড়া হয় নাই। পদস্থ সামরিক অফিসাররা সেই সকল মেয়েদের উপর সম্মিলিতভাবে ধর্ষণ করতে করতে হঠাৎ একদিন তাকে ধরে ছুরি দিয়ে তার স্তন কেটে, শরীরের মাংস কেটে,গোপনাঙ্গে মধ্যে সম্পূর্ণ ছুরি চালিয়ে দিয়ে হত্যা করে, অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে এভাবে ওরা আনন্দ উপভোগ করত।
দ্বিতীয় ঘটনা (y)
ঘরে ঢুকে দেখি,একি দৃশ্য।ও আল্লাহ,এমন দৃশ্য দেখার আগে কেনো আমার দুটি চোখ অন্ধ করলে না আল্লাহ। মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণ। কয়েকটি পাগলা কুত্তা আমার মাকে ও বড় বোনটিকে খাচ্ছে কামড়ে কামড়ে। এক পলক তাকানোর পর আর তাকাতেই পারছি না। তখন গায়ের জোরে একটা চিৎকার করলাম। সঙ্গে সঙ্গে আমার হাত মুখ বেঁধে ঘরের এক কোনায় ফেলে রাখলো। তারপর ঠিক আমার পায়ের কাছে মাকে এনে শুইয়ে দিয়ে একেবারে উলঙ্গ করে ফেলে। তারপর আর বলতে পারছি না। এসব দৃশ্য আমাকে দেখতে হচ্ছে। আমি যখনই চোখ বন্ধ করে রাখতাম,তখনই তাদের হাতের ধারালো একটি অস্ত্র দিয়ে চোখের চারপাশে কেটে দিত। এভাবেই চলল মায়ের ওপর সারারাত নির্যাতন।আর কিশোর হয়ে আমাকে তা দেখতে হয়েছে। রাত ভোর হয় হয় – এমন সময় তারা চলে গেছে, মা ততক্ষণে মৃত। যাবার সময় সঙ্গে নিয়ে গেল আমার অর্ধ মৃত রক্তাক্ত বোনটিকেও ” — ১৯৭১ এ পরিবারের সবাইকে হারানো কিশোর শফিকুরের আর্তি।
-{@ সেই রাতে যে সমস্ত পুলিশ সদস্য জান বাজী রেখে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেন সেই সব মহান মানুষগুলোর মধ্যে নীচে কয়েকজনের নাম দেয়া হল।
কনস্টেবলঃ এস আই /মজিবুল হক
কনস্টেবলঃ সার্জেন্ট মর্তুজা হোসেন
কনস্টেবলঃ ২৩৮ বাবর আলী
কনস্টেবলঃ ৫২৩১ কাঞ্চন আলী মিয়া
কনস্টেবলঃ হাঃ৩৯৪৪ মতিয়ার রহমান
কনস্টেবলঃ ৫১৮৬ শাহজাহান মিয়া
কনস্টেবলঃ ৪৫৫৪ আব্দুল মালেক খান
কনস্টেবলঃ ১৫০২ আব্দুল মতিন তরফদার
কনস্টেবলঃ ৪৯৬৩নুরন্নবী চৌধুরী
কনস্টেবলঃ ১০৫৫ আবদুল ওয়াদুদ
কনস্টেবলঃ ৪৮৬৯ মোঃ মকসুদ আলী
কনস্টেবলঃ ১০৯৯ আবুল ফারুক
কনস্টেবলঃ ৪৮৭৫ ইউনুস মিয়া
কনস্টেবলঃ ৪৯০৭ জহিরুল হক জহির
কনস্টেবলঃ ৪৮৯৭ নারায়ন চন্দ্র রায়
কনস্টেবলঃ ২৩৪ মোঃ শেখ আকরামুজ্জামান
কনস্টেবলঃ ৩০৬৪ জহিরুল হক কাজী চুন্নু
কনস্টেবলঃ ৪৪০৫ সাহেব আলী মোল্লা
কনস্টেবলঃ ৫০২৭ গিয়াস উদ্দিন
কনস্টেবলঃ ১৯৯ শাহজাহান মিয়া
কনস্টেবলঃ ১৪৩৬ সৈয়দ আশরাফ আলী
কনস্টেবলঃ ৫০১ নুরুজ্জামান মিয়া

সহযোগিতায়:
উইকিপিয়া,সামু,Jishnu Banerjee,অন লাইন

1511422_834614093252401_3529218519423870171_nগগণে উঠিল সুর্য্য
পৃথিবীকে জানিয়ে বাঘের গর্জনে
আই সি সি ওয়াল্ডকাপ করবে স্বরণীয়
নিজেদের সেরাটা বিলিয়ে।
ছয় চার ছয় চার
বল যায় ছাড়িয়ে মাঠ পেরিয়ে
সাকিব মাহমোদুল্লাহ মুশফিকের
ব্যাটের হুংকারে
প্রতিপক্ষ যায় যে পালিয়ে।
মাঠে বীর বাঙ্গালী ওরা ১১জন
বাহিরে লক্ষ কোটি দেশী-বিদেশী ভক্ত
মার ঘুড়িয়ে লে চার-ছক্কা
প্রতিপক্ষ হয় যেন ভত্তা।
মওকা মওকা মারবে এবার চার ছক্কা
কোথায় তোমরা সমাচোলকের দল,
বাঙ্গালী “৫২,”৭১ এর বীর বীজেরা
জেগেছে আজ মুক্তির নেশায়,
উড়াবে বিশ্ব ক্রীকেটে সর্বোচ্চতায়
লাল সবুজের স্বদেশী রক্তিম পতাকা।

জম্ম থেকে জ্বলছি ষোল কোটি জনতা
অপেক্ষার প্রহর গুণছে বাঙ্গালীর মায়েরা
কখন শোনাবে বীর ছেলেরা
অভাগা বাংলার ঘরে ঘরে উঠবে জয়ধ্বনির গান
রাখিবে এবার মায়ের মান
বাঘের গর্জনে জেগে উঠবে
বিশ্ব ক্রীকেটে শুধু বাংলা মায়ের
জয়ের গান।

ছবি”নেট হতে

image_105436_0ওরা ১১জন
সাকিব,মুসফিক,মোর্তুজার ক্রীকেট দল
বাংলা মায়ের অহংকার,পিতার রুদ্র সৈনিক স্বদেশী বল
এক দিন হবেই হবে,
বাংলায় বিশ্ব ক্রীকেট জয়ের উৎফুল্লতার বহিঃপ্রকাশ।
ওরা ১১জন
তীল তীলে গড়ে উঠা বিশ্ব মানচিত্রে নয়টি মাসের সংগ্রামী ফল
বাংলাদেশ নামক একটি দেশের মাথা উচু করে উঠা
যেনো একটি নতুন ভাবনার ক্রীকেটের দল।
ওরা ১১জন
যাচ্ছে এগিয়ে যাবে এবার দেখবে জগৎ বাসী
“৫২ ও “৭১,এ হারেনি দামালেরা
হারতে শিখিনি আমরাও
দুমড়ে মুচড়ে গিয়েও দু’হাত উচুতে ধরতে শিখেছি
লাল সবুজে আকাঁ রক্তাক্ত দেশটিকে।
ওরা ১১জন
ঐক্যতায় সাথী আমরা,
ষোল কোটি জনতার আশা ভালবাসার সংমিশ্রন
“৭১এ যেমনটি বিজয়োল্লাসে উদিত নতুন লাল সূর্য্য
সবুজের মায়ায় শহীদ হলো লক্ষ লক্ষ জনতা
১৬ই ডিসেম্ভর খুশির জোয়ারে ভাসছিল জনতা
তেমনি আবারও হাসবে ভাসবে খুশির জোয়ারে
ক্রীকেট বিশ্ব মাঠে,
লাল সবুজের পতাকাটি উড়বে
কোন এক নতুন সূর্যের ভাবনায়।